
গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের দুর্নীতিগ্রস্থ সিপিপি কর্মকর্তার অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সিপিপি উপজেলা কার্যালয় (জেসি কমপ্লেক্স )এর সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সিপিপি শ্যামনগর পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা ও পৌরসভার সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকগণ অংশ নেয়।
ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে শ্যামনগর পৌরসভার সিপিপি টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টু, নজরুল ইসলাম মুন্না, ভবেসিন্দু মন্ডল, হাবিবুর রহমান, ইয়াছিন মোড়ল, রবিন্দ্রনাথ মন্ডল, লিডার শাহীন ভূইয়া, হেলাল মাহমুদ ও দেবাশিস গায়েন বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) শ্যামনগরের সহকারী পরিচালক মুন্সি নুর মোহাম্মদ- দুর্যোগে কাজ করা সিপিপি সংগঠনকে একটা বাণিজ্যিক সংগঠনে পরিনত করেছেন। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজের মন গড়া কার্যক্রম পরিচালনা করে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে স্বেচ্ছাসেবীদের কাজেন মনোভাব নষ্ট করছেন। সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক নির্দেশিকা -২০২১ অনুসারে সিপিপিতে যোগদানের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ নির্ধারণ থাকলেও এই নীতিমালা অমান্য করে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিপা চক্রবর্তী নামক একজন ৪০ উর্ধ্ব বয়স্ক নারীকে নিয়োগ দেন। অপর দিকে রমজাননগর ইউনিয়নের তানিয়া নামক ১৬ বছরের এক কিশোরীকর নিয়োগ দেন। কর্মকর্তার আনঅফিসিয়াল কথা না শোনার কারনে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মাছুরা নামক নারী স্বেচ্ছাসেবককে বিনা কারণে বাদ দিয়েছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে এই কর্মকর্তার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার কারণে রমজাননগের আছমা মেম্বার ও কৈখালীর রাবিয়া মেম্বারের সিপিপির আইডি কার্ড দিতে তালবাহানা করছেন।
বক্তারা আরো বলেন: সহকারী পরিচালক মুন্সি নুর মোহাম্মদ এভাবে চলতে থাকলে শ্যামনগরের উপকূলীয় আমজনতা সিপিপি থেকে দুর্যোগের সময় সেবা পাবে না। তিনি একের পর এক নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড করছেন এবং তার সাথে সঙ্গ না দেওয়ায়- শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন টিম লিডার মোঃ আব্দুর রশিদ নান্টুর নামে বিভিন্নভাবে মিথ্যা হয়রানি মূলক বেনামী অভিযোগ দিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। সর্বশেষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নামীয় ব্যক্তির পাঠানো অভিযোগে বিষয়টি পরিষ্কার হয়- মুন্সি নুর মোহাম্মদ অভিযোগকারীদের স্থানে আব্দুর রাজ্জাকের নাম ব্যবহার করে ইয়াসিন মোড়ল এবং আব্দুর রশিদ নানটুর নামে পুনরায় অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে আব্দুর রাজ্জাকের দেওয়া ভিডিও স্টেটমেন্টে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। দুর্যোগের সময় বিশেষ মুহূর্তে অতি প্রয়োজনে কর্মকর্তাকে ফোন করলে ফোন কেটে দেন। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকরা অফিসে গেলে তিনি বিরক্ত বোধ করেন। স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে একে অপরের সাথে বিরোধ লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেন এই কর্মকর্তা।
টাকার বিনিময়ে জাতীয় পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মুন্সি নুর মোহাম্মদ। তার কাছের ব্যক্তি রমজান নগর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক ফারুক হোসেনকে অফিসের নথি প্রকাশ করে নায্য পুরষ্কার প্রাপ্য নজরুলের ডকুমেন্টস জাল করে ততকালীন ইউএনও'র কাছে প্রেরণ করেছেন। এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকরা মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদের বদলি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





























