
শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুর জেলা শহরের ব্যস্ততম স্থান মুন্সীবাজার গোয়ালপট্টি কালিমন্দির সামনে থেকে মাসুদ রানা নামে এক পরিবহন ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে শহরের টিক্কাপাড়া মহল্লার ট্রাক চালক জাহাঙ্গীর গং এর বিরুদ্ধে। এঘটনায় ভুক্তভোগীর মা মোছা: রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ওই পরিবহন ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
অভিযোগ সূত্রে ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যে জানা গেছে, গত ৭ মে বুধবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবহন ব্যবসায়ী মাসুদ তার কতিপয় বন্ধু বান্ধব নিয়ে চা খাচ্ছিলেন। এমন সময় জাহাঙ্গীর (মাসুদ এর ভায়রা) তার ১০/১৫ জন সহযোগী নিয়ে এসে মাসুদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং তার সঙ্গে থাকা ইয়ামাহা এফজেড সিরিজের মটরবাইক ও গাড়ির কিস্তির ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নেয়। পরে এঘটনা অবগত হওয়া মাত্র মাসুদের মা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক এক অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী মাসুদ রানা কে তার মোটর সাইকেল এবং মোবাইল ফোন সহ উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে তুলে দেয়। তবে ভুক্তভোগী মাসুদের অভিযোগ তার কাছে থাকা গাড়ির কিস্তি বাবদ ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে থাকা দূর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিয়েছে।
এঘটনায় পরিবহন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। জাহাঙ্গীর গং আমাকে মেরে আমার কাছে থাকা মোবাইল, গাড়ি এবং টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে । যার প্রমাণ গোয়ালপট্টি এলাকার দোকানগুলোর সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখলেই বুঝতে পারবেন। এখনও তারা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে আটক করতে পারে নি।
জনসম্মূখ থেকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, মূলত মাসুদ আমার ভায়রা। সে আমার কাছ থেকে সে কিছু টাকা ধার নিয়েছে।এখন আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিব তাই আমার টাকার প্রয়োজন ছিল।এটা নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা চলছিল।ঘটনার সময় আমার শশুর বাড়িতে গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বসে ছিলো বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য। আমি মাসুদকে গোয়ালপট্টি মোড়ে গিয়ে ডাকতে গেলে সে আমাকে গালাগাল করে, তাই আমি রেগে গিয়ে তাকে গাড়ি সহ তুলে আনি। মারধরের বিষয়টি সঠিক নয়।
এব্যাপারে শেরপুর সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: এনামুল সিদ্দিকীর সাথে কথা বললে, তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন এটা তাদের পারিবারিক ঝামেলা। তারা মূলত সম্পর্কে ভায়রা।আমরা মাসুদের শুশুর বাড়ি গিয়ে ওই এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিসহ মাসুদকে সেখানে দেখি। পরে তাকে তার মার কাছে তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি ওখানেই মীমাংসা করা হয়েছে।





























