
মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা)।। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও সব দপ্তরের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে কুমিল্লার সার্বিক চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব। উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, একসময় কুমিল্লা ছিল দেশের অন্যতম সুশৃঙ্খল ও সৌন্দর্যমণ্ডিত শহর। কিন্তু বর্তমানে শহরটি নানা সংকটে জর্জরিত। শহরে প্রবেশ ও বের হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমাদের হতাশ হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। আমি এই বয়সেও কুমিল্লার জন্য কাজ করতে চাই এবং আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা চাই।তিনি আরো বলেন, একসময় এ অঞ্চল বিস্তীর্ণ জলাশয় ও দারিদ্র্যে আচ্ছন্ন ছিল। পরবর্তীতে সমাজসংস্কারক আখতার হামিদ খান সমবায় আন্দোলন ও বার্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কুমিল্লার উন্নয়নের ভিত রচনা করেন। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন পরিকল্পনায় এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন দেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি অগ্রযাত্রার পথে। এ সময় দপ্তর প্রধানদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র সুসংহত হয়েছে। এখন প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। শুরুটা আপনাদের করতেই হবে।আলেখারচর বিরতি থেকে মিয়াবাজার পর্যন্ত মহাসড়ককে দুর্ঘটনাপ্রবণ উল্লেখ করে এমপি বলেন, ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইডার ও প্রয়োজনীয় আন্ডারপাস-ওভারপাস না থাকায় এটি মানবসৃষ্ট ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আনার দায়িত্ব তিনি নিজে নেবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গঠিত কাঠামো নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। লালমাই উপজেলা গঠন ও তা নিয়ে আদালতের রায়ের বিষয়ও উল্লেখ করেন তিনি। সিটি করপোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণ হলে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কিছু এলাকা একীভূত করার পরিকল্পনার কথাও জানান। এতে নাগরিক সেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মত দেন তিনি। সড়কে বাজার নয়- বিকল্প স্থানে স্থানান্তর পদুয়ার বাজারের সাপ্তাহিক হাট সড়কের ওপর না বসিয়ে পাশের মৎস্য বিভাগের খাস জমিতে স্থানান্তরের তাগিদ দেন তিনি। সড়কে যাতে কোনো বাজার না বসানো হয় এবং জনভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন তিনি।জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান-এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা।





























