
আরও দুর্নীতিবাজ সরকারের আশ্রয়েই আছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিরোধীদলীয় সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক।
শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ দাবি করেন।
ফারুক বলেন, এখন নতুন করে ফয়সালের আবিষ্কার হয়েছে। বাংলাদেশে এভাবে বহুলোক সরকারের আশ্রয়ে আছে যারা কোটি কোটি-হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশের মাটিতে বাড়ি করে সুইমিং পুল তৈরি করে রাতে সাঁতার কাটে। এসব লোককেও আপনাকে বের করতে হবে। নইলে বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে কোনো দিনও ক্ষমা করবে না।
তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব যেভাবেই কথা বলছেন, কথা বলেন। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সচেতন। ক্ষমতায় টিকে আছেন আমলাতন্ত্র দিয়ে, কিছুসংখ্যক আমলা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে আপনাদের পক্ষে এক দিনের জন্য এখনও নিতে পারেন নাই। তাই ভাইয়ে ভাইয়ে নির্বাচন, ডামি নির্বাচন। এমপি হবেন, এমপির ছেলে উপজেলা চেয়ারম্যান হবে, এমপির বউ পৌরসভার চেয়ারম্যান হবেন, এমপির ভাগিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবে এটা বাংলাদেশের জনগণ কখনও চায় না। যে গণতন্ত্রকে আপনারা হত্যা করেছেন ৫ মিনিটে সংসদে দাঁড়িয়ে, যে ভোটের বাক্স হেলিকপ্টারে করে এনে এমপি নির্বাচিত করেছেন সেই আওয়ামী লীগ আবারও ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এর ৭ জানুয়ারির কথিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মসনদে বসেছে, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, তারেক রহমানকে দেশের বাইরে রেখে, চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলীকে গুম করে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাসদের জেলে রেখে আপনারা মনে করেছেন এ দেশে বিএনপির রাজপথের আন্দোলন ঠেকাবেন। আমরা বলে দিতে চাই, এটা জনগণ, বিএনপি কখনও মেনে নেবে না।
‘ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তি জনগণ মানে না’ জানিয়ে ফারুক বলেন, বক্তব্য স্পষ্ট, আমার বুকের ওপর দিয়ে আপনি রেললাইন নির্মাণ করবেন, আমার স্বাধীন ভূমির ওপর দিয়ে আপনি রেললাইন নির্মাণ করে আপনি ৩০ ঘণ্টার পথ সাত ঘণ্টা করবেন। আমাদের আপত্তি একটাই যে, আমার সার্বভৌম দেশ যে দেশের জন্য হাফ প্যান্ট পরে খালি পায়ে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। নির্মম সত্য হলেও বলতে হয় সে কথা আপনাদের মনে নাই। আপনাদের তখন কি মনের ভেতরে ছিল জনগণ তা বলা শুরু করেছে, ‘দেশ স্বাধীন করে দেব কিন্তু বাংলাদেশের মাটি আমি ব্যবহার করব’। আমি বলে দিতে চাই, ভারতের সঙ্গে এসব অসম চুক্তি বলেন, সমঝোতা বলেন এসব জনগণ মানে না, আমরা মানি না, মানতে পারি না। এসব অসম চুক্তি বাতিল করুন। বিএনপিকে বলব, এমন কর্মসূচি দেন যে কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতীয় আগ্রাসনের ব্যাপারে জনগণ সোচ্চার হতে পারে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রজন্ম বাংলাদেশের উদ্যোগে ভারতের সঙ্গে ‘অবৈধ সরকারের অবৈধ চুক্তি-সমঝোতা’র প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
প্রজন্ম বাংলাদেশের সভানেত্রী ও বিএনপির প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহসম্পাদক অপর্ণা রায়দাসের সভানেত্রীত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপির আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, কাদের গনি চৌধুরী, মাওলানা শাহ নেছারুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।






































