
মোঃ রায়হান মাহামুদ:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে হত্যা মামলায় সতের বছর পলাতক থাকার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ মাদক কারবারি, চুরি, ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর পুত্র রহমত আলী মিস্ত্রী (৫৩) ২০০৯ সালে নারায়ণগঞ্জের রূগগঞ্জ থানার মাওনা গ্রামের চাতালে কাজ করার সময় মালিক নুরুল হক নুরুকে হত্যা করে। এ বিষয়ে রুপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (নং ৫০(০৮)০৯) দায়ের করা হয়। ঘটনার পর রহমত আলী মিস্ত্রী নিজেকে আড়াল করতে এনআইডি’র ঠিকানা পরিবর্তন করে কালীগঞ্জের বাহাদুরসাদী গ্রামে স্থানান্তর করে এবং পরিচয় গোপন করে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার চরকশিয়া গ্রামের হাবিবুল্লাহর কন্যা আলপনাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করতে থাকে। মামলা চলাকালীন বিজ্ঞ আদালত রহমত আলী মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন। পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ আদালতের সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারী পরোয়ানা পেয়ে আসামীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এবং মোবাইল নাম্বার ট্রাকিং করে আসামীর বর্তমান ঠিকানা সনাক্ত করেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে কালীগঞ্জ থানার এস আই (নিঃ) মো. মাসুদ রানা শামীমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের সহযোগীতায় চরকশিয়া গ্রামে হাবিবুল্লাহর বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর পলাতক থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী রহমত আলী মিস্ত্রীকে আটক করেন।
অপরদিকে বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ থানার চাঁন্দেরবাগ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জামালপুর ইউনিয়নের বালুয়াভিটা গ্রামের রাজু মোড়লের পুত্র মাদক কারবারি মো. রনি মোড়লকে কালীগঞ্জ থানার মামলা নং ২৭(০৭)২৫ এর গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে আটক করে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পলাতক থাকার পর রুপগঞ্জ থানার চাতাল মালিক নুরুল হক নুরু হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী রহমত আলী মিস্ত্রী এবং মাদক কারবারি রনি মোড়লকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।































