
স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জ–১ (তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ১৪ দিন বাকি, আর ভোটের মাঠ এখন উত্তাপ ও উত্তেজনায় দগ্ধ। এই আসনে কেবল প্রতীক বা প্রচারণা নয়—নীরব ভোটের প্রভাবই শেষ মুহূর্তে ভাগ্য উল্টে দিতে পারে।বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ধানের শীষ এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খাঁন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মুখোমুখি। দুই প্রার্থীর প্রচারণা ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে—কামরুল দলীয় শক্তি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন এবং ইউনিয়নভিত্তিক কর্মসূচি দিয়ে ভোটার সংযোগ বাড়াচ্ছেন। তোফায়েল নীরবভাবে ধর্মীয়, সামাজিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংযোগ বাড়াচ্ছেন, যা গ্রামাঞ্চলে ধীরে ধীরে শক্তি ও প্রভাবের ঢেউ তোলে।কিন্তু শেষ হাসির চাবিকাঠি এখনো ঘুমিয়ে আছে—নীরব ভোট। এই ভোটাররা প্রকাশ্যে কথা বলে না,চুপচাপ রয়েছেন,কিন্তু তাদের প্রতিটি হাতের নড়াচড়া মাঠের মানচিত্র উল্টে দিতে পারে। হাওরের নৌঘাট থেকে চায়ের দোকান, হাটবাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ—সব জায়গায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই: নীরব ভোট কার পক্ষে যাবে?রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,এই নীরব ভোট কামরুল বা তোফায়েলের ভাগ্যকে শেষ মুহূর্তে উল্টে দিতে পারে। এরা কোনো রোস্টার বা সমাবেশের মধ্যে আসে না,কিন্তু তাদের শক্তি নির্ধারণ করছে বিজয়ীকে। এই নীরব শক্তিই হচ্ছে শেষ হাসির মন্ত্র,যা কেবল শেষ মুহূর্তে রায় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।সুনামগঞ্জ–১ আসন ভৌগোলিকভাবে বিশাল, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিস্তৃত হাওরাঞ্চল, নদী ও নৌপথ, বালু-মহাল, শুল্কস্টেশন এবং পর্যটন শিল্প অবস্থিত, যা শুধু উন্নয়নের নয়, বরং ক্ষমতা ও প্রভাবের কেন্দ্র। এমপি পদ মানে কেবল সংসদে প্রতিনিধিত্ব নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও প্রশাসনিক বলয়ের ওপর বড় নিয়ন্ত্রণ।জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৫ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২,৩৪,৮৮৯, নারী ২,২৭,৭০১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। এছাড়া প্রায় ৫৪–৫৫ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন,যাদের ভোট আচরণ বরাবরের মতোই ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে আয়োজিত মহা-সমাবেশ। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর থেকে কামরুল পুরো দমে মাঠে নেমেছেন। দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি, নির্দেশনা এবং ইউনিয়নভিত্তিক কর্মসূচি মাঠের শক্তি ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।মাঠের বাস্তবতা বলছে—এই নির্বাচন কোনো একতরফা লড়াই নয়। এখানে সংগঠন, অর্থনৈতিক প্রভাব,সংখ্যালঘু ভোট এবং শেষ মুহূর্তের কৌশল—সব মিলিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে। কিন্তু শেষ রায় যেকোনো মুহূর্তে নীরব ভোটের ছায়ায় গড়ে উঠবে।সুনামগঞ্জ–১ এখন কেবল একটি আসন নয়, বরং হাওরের রাজনীতিতে ক্ষমতা, প্রভাব এবং শেষ মুহূর্তের নীরব নাটকের ময়দান, যেখানে প্রতিটি ভোট মাইলফলক হয়ে উঠেছে, আর ফলাফল জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।




























