
আহম্মদ কবির,স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে চৈতালির শেষে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি হয়েছে।এতে উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে গাছগাছালিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধান ও সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের খুববেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার( ৬এপ্রিল)রাত ১২টা থেকে বইছিল ঝড়ো হাওয়া সঙ্গে ছিল বজ্রপাত। সাড়ে ১২টার দিকে বৃষ্টির পাশাপাশি হঠাৎ শুরু হয় শিলাবৃষ্টি।এতে উপজেলার পালই,খাইজ্যাউরী,গইন্যাকুড়ি,
এরাইল্যাকুনা,মাটিয়ান,বনুয়া হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টির পরিমাণ বেশি ছিল,এসব স্থানে প্রায় ৩০মিনিট ধরে চলে শিলাবৃষ্টি হয়েছে, এতে কোন কোন স্থানে ফসলের প্রায় ১২আনা ক্ষতির দাবি করছে কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায় চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ছোট,-বড় ২৩টি হাওরে ১৭হাজার ৫শত ৯হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে।
সোমবার সরেজমিন উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর ঘুরে ছিলানী তাহিরপুর গ্রাম সংলগ্ন বনুয়ার হাওরে দেখা যায় ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালামের জমিতে শিলাবৃষ্টি পড়ায় জমির ১২আনা ধান মাটিতে পড়ে যায়,উনি গরুর খড়ের জন্য গোড়া থেকে ধান কাটছেন এবং উনার স্ত্রী ঝাড়ু দিয়ে মাটি থেকে ধান কুড়িয়ে তুলছেন। এসময় কৃষক আবুল কালাম জানান কী বলবো আর ঋণ করে রাতদিন পরিশ্রম করে মাতার ঘাম পায়ে পেলে ১৮ কেয়ার জমি রোপণ করেছিলাম ধানও ভাল হয়েছিল,ধানপাকাও শুরু হয়।সকালে ধান কাটবো বলে বাজার থেকে কাচি কিনে এনেছি কিন্তু শিলাবৃষ্টি যে আমার সর্বনাশ হয়ে দাঁড়াবে আমি ভাবতেও পারিনি। আমার সম্পুর্ন ধান শেষ,কয়েকটি গরু আছে গরুর খড়ের জন্য গোড়া থেকে ধান কাটছি,কষ্টের একমাত্র ফসল মাটিতে পড়ে থাকা দেখে আমার স্ত্রী ঝাড়ু দিয়ে মাটি থেকে ধান কুড়িয়ে তুলছে আমার ভবিষ্যৎ কী হবে আমি জানি না আল্লাহর উপর ভরসা। একই এলাকায় নান্দিয়া হাওরে রোপণকৃত ৫কেয়ার জমির ১২আনা ধান শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী তরং গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুনায়েদ তালুকদার,আজিদ আখঞ্জী,সহ একাধিক কৃষক জানান গতরাতে হঠাৎ ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে,এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠা আমাদের মতো দরিদ্র কৃষকদের সম্ভব নয়।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ভবিষ্যতে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।





























