
আহম্মদ কবির,স্টাফ রিপোর্টার তাহিরপুরঃ,সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটা ধুম লেগেছে, কষ্টার্জিত একমাত্র বোর ধান কর্তনে মাঠে মাঠে কৃষকের ঘাম ঝরছে। চলতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় মাঠে মাঠে ফুটিয়ে উঠছে কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি।গতকাল (২৩এপ্রিল)মঙ্গলবার তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরসহ কয়েকটি হাওর ঘুরে দেখা যায় তীব্র রোদ কে উপেক্ষা করে চলছে বোর ধান কাটার ধুম।বর্তমানে আগাম জাতের ধান কাটছেন কৃষকরা।অন্য জাতের ধানেও সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সব জাতের ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।তবে এ বছর বোর ধানে বাম্পার ফলন হওয়ায় ফসলের মাঠে মাঠে ফুটে উঠেছে কৃষকের হাসি।হাওর অধ্যুষিত কৃষি ভান্ডার খ্যাত তাহিরপুর উপজেলার যে দিকেই তাকানো হয়৷ সে দিকেই কেবল সোনালী ধানের সমারোহ। প্রখর রোদ আর হালকা বাতাসে৷ ফসলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যসুত্রে জানাযায় এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে।এ উপজেলায় চলতি বোর মৌসুমে হাওর ও হাওরে বাহিরে সব মিলিয়ে ১৭হাজার ৪৬৫হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরের অংশে ১৩হাজার ৪১৫ হেক্টর এবং হাওরের বাহিরে ৪হাজার ৫০হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ করা হয়েছে।
গতকাল সরেজমিন হাওর ঘুরে দেখা যায় এ বছর প্রচন্ড রোদ ও তাপদাহ থাকায় ধান কাটতে কষ্ট হলেও,ফসল ভাল হওয়ায় কৃষকেরা মাথায় গামছা বেঁধে উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সাথেই ধান কাটছেন।তাদের অভিযোগ ক্রমাগত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ও শ্রমিক সংকটের কারনে বাড়ছে ধান কাটার শ্রমিকের দাম।প্রতি শ্রমিকের মূল্য এ বছর ৬০০ টাকা করে নিতে হচ্ছে তাদের।উপজেলার জয়পুর গ্রামের কৃষক কপিলনুর মিয়া জানান তিনি এ বছর ১২কেয়ার জমিতে বোর ধান রোপণ করেছেন।বর্তমানে সবগুলো জমির ধানেই কাটার উপযুক্ত, সময় হয়ে গেছে।কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি অনেকটাই বেশি পরিমাণ হওয়ার কারণে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। নিজেরাই এপর্যন্ত কেটেছি।ধান কাটা শেষ করতে আর চারপাঁচ দিন সময় লাগবে।একই এলাকার তরং গ্রামের কৃষক কাজী রুবেল মিয়া জানান আমি এ বছর ৫কেয়ার জমিতে বোর ধান রোপণ করেছি,আলহামদুলিল্লাহ জমিতে ফসল খুবই ভাল হয়েছে কিন্তু ধান রোপণ ও ধান কাটা পর্যন্ত যে খরচ হয়েছে এতে করে সম্পুর্ন ধান বিক্রি করলেও অনেকটাই ঘাটতি থাকবে।




































