
মোঃ এনামুল হক
তালা,সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার তালায় ফসল রক্ষার নামে বিষমাখানো সরিষা বীজ ছিটিয়ে ভয়াবহ পাখি নিধনের ঘটনা ঘটেছে।
বিষাক্ত বীজ খেয়ে শতাধিক কবুতর ও একটি ঘুঘু পাখির মৃত্যুতে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ ঘটনায় বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর ৩৮ ধারায় বন বিভাগ খুলনার পক্ষ থেকে সোমবার (২২ শে ডিসেম্বর) তালা থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য শনিবার ( ২০ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে উপজেলার হরিশ্চন্দ্রকাঠি গ্রামে একের পর এক কবুতর ও ঘুঘু পাখি মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার ( ২১ ডিসেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা বন বিভাগের ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন অফিসার তন্ময় আচার্য্য।
স্থানীয়দের দাবি, গত ১৯ ডিসেম্বর হরিশ্চন্দ্রকাঠি বিলে সরিষা চাষের জন্য বীজ বপন করেন তালা মহিলা কলেজের প্রদর্শক আব্দুল বারী। পাখির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার উদ্দেশ্যে বীজে বিষ মাখানো হয়। পরদিন ওই ক্ষেতে কবুতর ও ঘুঘু পাখির ব্যাপক বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। এরপর থেকেই একে একে পাখিগুলো অসুস্থ হয়ে মারা যেতে থাকে।
এ পর্যন্ত ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে ১০০টির বেশি কবুতর এবং একটি ঘুঘু পাখির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
হরিশ্চন্দ্রকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জিন্নাত খা ও হায়দার আলী বলেন, আমাদের অনেক কবুতর মারা গেছে। এগুলো আমাদের শখ আর জীবিকার অংশ। এমন ক্ষতি আগে কখনও হয়নি।
রহিমাবাদ গ্রামের আজিজ সরদার জানান, একদিনেই আমার ২৪টি কবুতর মারা গেছে। পাখিরা তো জানে না বীজে বিষ মাখানো আছে। এ ক্ষতির বিচার চাই।
ক্ষতিগ্রস্তরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বন বিভাগের কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য্য সাংবাদিকদের বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপরাধমূলক ঘটনা। বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা বলছেন, এ ধরনের বিষ প্রয়োগ শুধু পাখিই নয়, পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
এ বিষয়ে তালা মহিলা কলেজের প্রদর্শক আব্দুল বারীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমার জমিতে কোনো ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়নি।
এদিকে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























