
স্টাফ রিপোর্টার:বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষিত রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতিরাতেই ভয়াবহভাবে পাখি শিকার চলছে। উগ্র শিকারিরা উচ্চ ক্ষমতার টর্চলাইট ব্যবহার করে রাতের আঁধারে পাখিকে বিভ্রান্ত করে কুচা দিয়ে আঘাত করে এবং বিষটোপ প্রয়োগ করে হত্যা করছে। হাওরের লেছুয়ামারা,রৌহা ও বেরবেরিয়া বিলে এই কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্দিয়াতা গ্রামের এক যুবক জানান,প্রতিদিন শিকারিরা বিষটোপ দিয়ে একযোগে অসংখ্য পাখি হত্যা করে বস্তাবন্দি করে। এরপর এই শিকারকৃত পাখি স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে গোপনে বিক্রি করা হয় এবং পাখি ভক্ষণে আগ্রহী অর্থশালী মানুষের বাড়িতে সরবরাহ করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী,প্রতিরাতেই একই ধরনের শিকার অব্যাহত থাকে,যা হাওরের জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে।তিনি আরও জানান,প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মন্দিয়াতা হাটখোলা বাজারে শিকারিরা প্রকাশ্যেই পাখি বিক্রি করে থাকে। এছাড়াও শিকারকৃত পাখি মোটরসাইকেল ও নৌকাযোগে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়,যাতে সহজেই তা বিক্রি করা যায় এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়।টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরামের সহ-সভাপতি আল আমিন বলেন,এইভাবে বিষটোপ ব্যবহার করে সংরক্ষিত এলাকায় পাখি শিকার করা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি সরাসরি পরিবেশ হত্যার শামিল। বিষক্রিয়ার ফলে শুধু পাখি নয়, হাওরের মাছ, ব্যাঙ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে টাঙ্গুয়ার হাওরের পুরো পরিবেশ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।পরিবেশবিদরা বলছেন,টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি এবং হাজারো পরিযায়ী ও দেশি পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। শীতকালীন এই মৌসুমে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে হাওরের গুরুত্বপূর্ণ পরিযায়ী পাখির আগমন ক্রমেই কমে যাবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।স্থানীয়দের অভিযোগ,গভীর রাতে শক্তিশালী টর্চলাইটের আলো ফেলে পাখিকে স্থির করে ফেলা হয়। এরপর কুচা দিয়ে আঘাত কিংবা বিষ মেশানো খাবার ছড়িয়ে একসঙ্গে অসংখ্য পাখি হত্যা করা হয়। ফলে হাওরের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় পড়েছে।এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের বাগলি ও মন্দিয়াতা হাটখোলা বাজারে স্থানীয়দের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করেছেন। সভায় পাখি শিকার বন্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়।তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন,শুধু সভা নয়—নিয়মিত রাতকালীন টহল,বাজারভিত্তিক নজরদারি ও অভিযানের মাধ্যমে শিকারি চক্রকে দমন না করলে টাঙ্গুয়ার হাওরের এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা কঠিন হবে।





























