
ওয়াসিম উদ্দিন সোহাগ (স্টাফ রিপোর্টার) তাড়াইল কিশোরগঞ্জ থেকে তীব্র রোদ-গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। চরম অস্বস্তিতে সাধারণ জনজীবন। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের অত্যধিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। রোগীর চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, তীব্র গরমে আক্রান্ত রোগীরা আউটডোর ও ইনডোরে ভিড় করে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছে। এর মধ্যে গরমজনিত রোগীর সংখ্যাই বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ১৮ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডায়রিয়া, জ্বর ছাড়াও সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বয়স্ক ও শিশু ২৯০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে প্রায় ১০০ জন ভর্তি রয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। এই হরমে রোগীর চাপ আরো বাড়বে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সন্তানদের চিকিৎসা নিতে এসেছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকার শেফালী বর্মন। তিন সন্তানকে ডায়রিয়াজনিত কারণে ইনডোরে ভর্তি করেছেন। তিনি বলেন, দুই দিন আগে হঠাৎ করে বাচ্চারা পাতলা পায়খানা করে। এরপর পায়খানার দ্বার দিয়ে শুধু পানি নামতে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে ওই রাতেই হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের বেলংকা গ্রামের নারগিস বেগম তার সন্তানের জ্বরের চিকিৎসা নিতে এসে তাকেও ভর্তি করতে হয়েছে। তার বাচ্চার বয়স দেড় বছর। গত কয়েকদিন থেকে সর্দি কাশি জ্বরে ভুগছে। এলাকার ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাইয়েছেন। কিন্তু সুস্থতা আসেনি। তাই সরকারি হাসপাতালে এসেছেন।
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলা থেকে সাবরিনা আকতার তার মেয়ে মাইশাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে এ রোগ হয়। গরম এলেই ডায়রিয়ার সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, যেখানে-সেখানে ও পানির উৎসের কাছে মলত্যাগ, সঠিক উপায়ে হাত না ধোয়া, অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ, ঘন ঘন লোডশেডিং, রেস্তোরাঁ বা বাসায় পচন ধরা ফ্রিজের খাবার ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ। তাই এ বিষয়ে সর্তক থাকার আহবান স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের।তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মাদ আলমাছ হোসেন বলেন, তীব্র রোদ ও অতিমাত্রায় গরমের কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি রয়েছে। এতে হাসপাতালের বেড ছাড়িয়ে ফ্লোরেও চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। আবহাওয়াজনিত কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে। তবে হাসপাতালে ওষুধসংকট নেই। প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।




































