
গাজী হাবিব/জাহাঙ্গীর সরদার, সাতক্ষীরা: বৈশাখী আমেজে মুখর সাতক্ষীরায় বর্ণিল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বাঙালীর ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসন ও বিসিক সাতক্ষীরার আয়োজনে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের ৭ দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা উল্লেখযোগ্য।মঙ্গলবার (পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩) সকাল ৮টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী গান ‘এসো হে বৈশাখ’ গাওয়ার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং সর্বস্তরের মানুষ।অনুষ্ঠান শেষে কালেক্টরেট পার্ক থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রামীণ বাংলার লোকজ সংস্কৃতির প্রতীক নিয়ে অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট হয়ে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে শেষ হয়। পথজুড়ে সাধারণ মানুষের ঢল নেমে আসে এবং উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তী, সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওমর ফারুক, বিএনপি নেতা আব্দুর রউফসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।পরে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিশু শিল্পীদের গান, নৃত্যে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে। একইসঙ্গে সকাল ৯টায় সাতদিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার। মেলায় ৪২ টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প, গ্রামীণ খেলনা, মাটির তৈরি পণ্য, পিঠা-পুলি ও দেশীয় খাবারের স্টল বসানো হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।এদিকে নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের বাংলোতে আয়োজিত হয় বৈশাখী পান্তা-আপ্যায়ন। আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ, ভর্তা ও দেশীয় খাবার পরিবেশন করা হয়, যা বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন।দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে বিকেলে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অনুষ্ঠিত হবে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। এছাড়া সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা, যেখানে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ অংশ নেবে।সব মিলিয়ে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে সাতক্ষীরায় তৈরি হয়েছে এক মিলনমেলা। মেলা উদ্বোধনের পরপরই জেলা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন বয়সী মানুষের আগমনে মুখরিত হয় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। যেন বাঙালীর স্রোত বইছে পুরো জেলা শহরে। মোট কথা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাতক্ষীরার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ নতুন বছরকে বরণ করে নিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে, যা বাঙালির চিরন্তন অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন।




























