
মোঃ নাজমুল হোসেন পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় মুদি ব্যবসায়ী স্বপন কুমার বল ওরফে কালু বল (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল ৩টায় উপজেলার বলবাড়ি সংলগ্ন বরিশাল-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের পরিবার-পরিজন, স্বজন, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি স্থানীয় কলোনি বাজারে গিয়ে পথসভায় পরিণত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা স্বপন কুমার বলের হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচার কার্যকর করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একজন সুনামধন্য ও শান্তিপ্রিয় ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য,গত ২২ ডিসেম্বর সোমবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিয়ালকাঠি গ্রামের নিজ মুদি দোকানে অবস্থান করছিলেন স্বপন কুমার বল। এ সময় চুরির উদ্দেশ্যে শুভজিৎ (১৬) নামের এক কিশোর দোকানে প্রবেশ করে। বিষয়টি টের পেয়ে দোকান মালিক বাধা দিলে অভিযুক্ত আদলা ইট দিয়ে তার মাথায় গুরুতর আহত করে এবং দোকান থেকে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন কুমার বলকে উদ্ধার করে প্রথমে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
নিহত স্বপন কুমার বল দক্ষিণ শিয়ালকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ও সুধীর কুমার বলের পুত্র। তিনি এলাকায় একজন সৎ, পরিশ্রমী ও সুনামধন্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে শুভজিৎ নামের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং হামলায় ব্যবহৃত আদলা ইট জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী বাহাদুর, প্রফেসর সলিল কুমার বল, স্বপন কুমার বেপারী, ছাত্রদল নেতা ইদ্রিস হাওলাদার, ভিডিও নির্মাতা মহিউদ্দিন শামীম এবং নিহতের মেয়ে শম্পা রানীসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। শুধু একজন ১৬ বছরের কিশোরের পক্ষে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা সংঘটন সম্ভব নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান তারা। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হবে।মানববন্ধন কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।





























