
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ২ সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ হতে বাকি মাত্র তিন দিন। তবে দু’পক্ষের হুমকি-পাল্টা হুমকি ও নানা কর্মকাণ্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো লক্ষণ মিলছে না। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ খোলার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বন্ধ করেছে ইরান। আগামীকাল সোমবার দু’পক্ষ পাকিস্তানে ফের আলোচনায় বসবে এমন তথ্য আসলেও সেটিও অনিশ্চিত।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর প্রথম ভালো খবর আসে গত শুক্রবার। এদিন মধ্যরাত থেকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই দিনই হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাগচির ওই ঘোষণার পরপর ৪৮ দিনের অচলাবস্থা শেষে হরমুজ দিয়ে বের হওয়ার জন্য নোঙর তুলে রওনা দেয় অনেক জাহাজ। তবে রাতেই অনেক জাহাজকে ফিরিয়ে দেয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
শনিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। প্রতি ব্যারেলের দাম ৯০ ডলারের কাছাকাছি চলে আসে।
তবে শনিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা থেকে হরমুজ প্রণালিতে তারা ফের অবরোধ আরোপ করেছে। প্রণালির কাছাকাছি আসা শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য করা এবং যেকোনো আইন লঙ্ঘনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বারবার বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। আইআরজিসি জানায়, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে মার্কিন শত্রু পক্ষ ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়নি। তাই আজ সন্ধ্যা থেকে এই অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।’
সামরিক বাহিনীটি সতর্ক করে বলে, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে থাকা জাহাজগুলো যেন তাদের নোঙর করা স্থান থেকে না নড়ে।
জাহাজ মালিকদের কেবল ইরানের আপডেট অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে আইআরজিসি এটার বলে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের ‘কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই’।
একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হলেও দু’পক্ষের মধ্যে ফের বৈঠকের কথা জানা যায় শনিবার। আগামীকাল সোমবার ইসলামাবাদে দু’পক্ষ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে এমন সংবাদও দেয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
তবে সেই আশায় জল ঢালেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। শনিবার তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে অংশগ্রহণের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসবে না।
খাতিবজাদেহ বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা একটি রূপরেখার বিষয়ে একমত হচ্ছি, ততক্ষণ আমরা আলোচনার তারিখ নির্ধারণ করতে পারছি না।’
একইদিন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
গালিবাফ বলেন, ‘আলোচনায় কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, আবার কিছু বিষয়ে হয়নি। আমরা এখনও চূড়ান্ত চুক্তি থেকে অনেক দূরে রয়েছি।’
হরমুজে নৌ-অবরোধ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনাকে আরও জটিল করে তুললেও গালিবাফ একে তেহরানের জন্য কৌশলগত বিজয় বলেও হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শত্রুকে ধ্বংস করিনি। তাদের এখনও অর্থ ও অস্ত্র আছে, কিন্তু কৌশলগতভাবে তারা আমাদের সামনে পরাজিত হয়েছে।’






































