
স্টাফ রিপোর্টার হাওরের বুকজুড়ে এখন সবুজের বিস্তার দিগন্তজোড়া বোরো ধান বাতাসে দুলছে।কৃষকের চোখে স্বপ্ন, ঘরে তুলবেন সোনালি ফসল। কিন্তু সেই স্বপ্নের নিচে জমছে অদৃশ্য আতঙ্ক।তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে নির্মাণাধীন ফসল রক্ষা বাঁধে অনিয়ম,ধীরগতি ও মানহীন কাজের অভিযোগে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বাঁধে কেবল মাটি ফেলে রাখা হয়েছে যেন কাজের নামে আনুষ্ঠানিকতা।কোথাও মাটির স্তূপ আছে,কিন্তু সঠিকভাবে চাপ দেওয়া হয়নি। দুরমুজ বা দুর্বা ঘাস লাগানোর কাজ অধিকাংশ জায়গায় শুরুই হয়নি। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার এখনো অরক্ষিত অবস্থায়। স্থানীয়রা বলছেন, আগাম পাহাড়ি ঢল নামলে এসব দুর্বল অংশ ভেঙে যেতে সময় লাগবে না।শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের কৃষক সঞ্জীব তালুকদার ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন,আমাদের জাঞ্জাইল গ্রামের পাশের বাঁধ পুরোটা পুরনো মাটি দিয়েই মেরামত করা হয়েছে।যেখানে কম ছিল, সেখানে একটু নতুন মাটি দিয়েছে। এভাবে কি আগাম বন্যার চাপ ঠেকানো সম্ভব?পার্শ্ববর্তী সুলেমানপুর গ্রামের কৃষক পাবেল মিয়া আরও কঠোর প্রশ্ন তোলেন,জাঞ্জাইল গ্রামের এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ার ফাঁকা অংশ ভরাট করলেই হতো।এত লম্বা বাঁধ দেওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? এতে তো সরকারি টাকার অপচয় হয়েছে।”তিনি যোগ করেন,যেহেতু পুরনো মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে নতুন করে মাটির বরাদ্দ কেন দেওয়া হলো?।উপজেলায় এ বছর ছোট-বড় ২৩টি হাওরে ৮৮টি পিআইসির বিপরীতে প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর বরাদ্দ ছিল ১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দ বেড়েছে,কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় সেই অঙ্কের প্রতিফলন কতটা—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতনরা।উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়,চলতি মৌসুমে ২৩টি হাওরে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদনের বাজারমূল্য তিনশ কোটি টাকারও বেশি।এই বিপুল অর্থমূল্যের ফসল এখন নির্ভর করছে মাটির বাঁধের ওপর—যার অনেকগুলোই এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।নীতিমালা অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কাজ শুরুর আগে পিআইসিদের বরাদ্দের ২৫ শতাংশ অগ্রিম দেওয়ার নিয়ম থাকলেও একাধিক পিআইসি সদস্য জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ টাকাই দুই দফায় পেয়েছেন। এতে কাজের গতি কমেছে বলে তাদের দাবি।কৃষকদের একটাই কথা এক রাতের পাহাড়ি ঢলই যথেষ্ট। বাঁধ যদি টিকতে না পারে,তাহলে তিনশ কোটি টাকার ফসল,আমাদের বছরের ঘাম আর আশা সব একসাথে পানিতে ভেসে যাবে।এখন প্রশ্ন একটাই বরাদ্দের অঙ্ক কি কেবল কাগজে-কলমে, নাকি বাস্তবেও তার শক্ত ভিত্তি আছে? কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সবুজ হাওর আবারও পরিণত হতে পারে হাহাকারের





























