
আরফাত হোসেন- বিশেষ প্রতিনিধি:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ হাশিমপুরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত আন্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ হাশিমপুর কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া নজিরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও হেফজখানা।
এটি আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালের পহেলা জানুয়ারি আওলাদে রাসূল, মুরশিদে বরহক্ব, রহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরিকত, আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা.জি.আ)'র পবিত্র হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ও গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ হাশিমপুর ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অদ্যাবধি প্লে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে।
তিনটি বিভাগ তথা নুরানী (প্লে-৩য়) এবতেদায়ী (৪র্থ- ৫ম) ও দাখিল (৬ষ্ঠ- ৮ম) শ্রেনী-তে মোট ৪০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। যাদেরকে ১৬ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা সুশিক্ষাই শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে।
উক্ত মাদ্রাসার অধিভুক্ত ২০১৭ সালে এতিমখানা ও হেফজখানা চালু হয়, যাতে ৩ জন অভিজ্ঞ হাফেজ শিক্ষক দ্বারা ৫০ জন ছাত্রকে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। অবকাঠামোগত ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিবছর সালানা জলসার আয়োজন করা হয়। আন্জুমান ট্রাস্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসার যাবতীয় কার্যক্রম তদারকি করা হয়। এই মাদ্রাসা থেকে প্রতিবছর সরকারি বৃত্তিসহ বিভিন্ন বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষায়ও শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সাথে অনেকে শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করে থাকেন, যা অনেক সৌভাগ্যের।
মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি দৃষ্টিনন্দন তৈয়্যবিয়া তুফান আলী আবদুর রহমান জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে অসংখ্য মুসল্লী দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। মাদ্রাসায় পড়ালেখার পাশাপাশি দক্ষ আলেমদ্বীন হিসেবে গড়ে তুলতে সপ্তাহিক জলসারও আয়োজন করা হয়। যাতে করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মাননশীলতা যথাযথ চর্চা হয়। দক্ষিণ চট্টলামে সফরকালীন হুজুর কেবলা গণের বিশ্রামের জন্য শীততাপ নিয়ন্ত্রিত একটি হুজরা শরীফ রয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা শৌচাগার রয়েছে। নিরাপদ পানীয় পান করার জন্য একটি গভীর নলকূপও রয়েছে। মাদ্রাসার পুরো এরিয়া সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সুবিশাল মাঠ রয়েছে যেখানে মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা তাদের সুযোগমতো খেলাধূলায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, সবদিক বিবেচনা করলে এটি একটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ভবিষ্যতেও এই মাদ্রাসার আরো সার্বিক উন্নতি কামনা করছি।





























