
নারায়ণগঞ্জে ডিউটিরত এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাকু ও চাপাতিও উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় ডিউটিরত পুলিশের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ভবন-এর সামনে ডিউটিতে ছিলেন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই এসএম লুৎফর রহমান। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা তিনজন দুষ্কৃতকারী চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আঘাত করে। পরে তার সরকারি ইস্যুকৃত একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এএসআই লুৎফর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা-এ অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে দস্যুতা মামলা করা হয়।
ঘটনার পর জেলা পুলিশের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী-এর নেতৃত্বে সদর মডেল থানা, ফতুল্লা মডেল থানা ও গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে অভিযান শুরু করে।
পরে অভিযানে মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে বন্দর থানার সোনাকান্দা ব্যাপারীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি ছোরা ও একটি বড় চাকু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার রেলী আবাসিক এলাকার একটি পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে লাল কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ছিনতাই হওয়া পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে এসব উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় জিয়াম রাফি (৩৪), ডাকু জুয়েল (২৬) ও আরহাম (৩২) নামের আরও তিনজন জড়িত। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার মিশাল ওরফে বিশালের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় ডিউটিরত এএসআই লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পোশাক পরা পুলিশের কাছ থেকে শুধু অস্ত্র ও গুলি ছিনতাইয়ের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।





























