
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা টাঙ্গুয়ার হাওর আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে। হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রংচি হিজল বাগানে প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে অব্যাহত রয়েছে অবৈধ চাষাবাদ। ফলে এলাকাবাসীর মনে তীব্র প্রশ্ন—এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে কারা রয়েছে?
সম্প্রতি মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন রংচি হিজল বাগানে সব ধরনের চাষাবাদ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। উল্টো নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে স্থানীয় একটি দুষ্কৃতকারী ও প্রভাবশালী চক্র দিবালোকে জমি প্রস্তুত, হালচাষ ও ফসল উৎপাদনে ব্যস্ত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,চাষের নামে শতবর্ষী হিজল গাছের শিকড় কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এবং ব্যাহত হচ্ছে হাওরের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলশ্রুতিতে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি,সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলেই ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়ছে। অথচ নিষিদ্ধ এলাকায় দিনের পর দিন নির্বিঘ্নে চাষাবাদ চলা প্রশাসনিক নীরবতার পাশাপাশি কোনো প্রভাবশালী ছত্রচ্ছায়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রংচি হিজল বাগান ধ্বংস মানেই টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ভেঙে দেওয়া। এভাবে চলতে থাকলে হাওর তার আন্তর্জাতিক রামসার মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে, যা দেশের জন্য বৈশ্বিক অঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা বহন করবে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে অবৈধ চাষাবাদ উচ্ছেদ, দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হিজল বাগান রক্ষায় স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়—আইনের নিষেধাজ্ঞা কেবল কাগজে থাকবে, নাকি টাঙ্গুয়ার হাওর ধ্বংসের নেপথ্যে থাকা অদৃশ্য শক্তিকে চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























