
অভিনয়ের আগে রিহার্সাল ও নাচের জন্য শরীরকে ফিট রাখার চাপ থাকে তারকাদের ওপর। এই পরিস্থিতিতে একাধিক বলিউড তারকা নিজেকে ফিট রাখতে বহু ধরনের ডায়েট চার্ট মেনে চলেন। কারণ বলিউডে শরীর ফিট তো অভিনয়ে হিটÑ এমনটাই বলা হয়। এক নজরে দেখা যাক বলিউড তারকাদের ডায়েট চার্ট...
শাহরুখ খান
খাবার খাওয়ার ব্যাপারে সব সময়ই কড়া নিয়ম মেনে চলেন শাহরুখ খান। এই যেমন ডুবো তেলে ভাজা ও মসলাযুক্ত খাবার একেবারেই এড়িয়ে চলেন। নিজের শরীরকে ফিট রাখার জন্য দুপুর আর রাতের খাবারে বেশি গুরুত্ব দেন সালাদকে। সঙ্গে থাকে স্যুপ। তবে মাংস খাওয়ার ব্যাপারে রয়েছে আপত্তি। পার্টিতে অবশ্যই যান, তবে সেখানে সাধারণত কোনো খাবার বা পানীয় ছুঁয়ে দেখেন না।
আমির খান
প্রতিটি ছবিতে আমির খানকে দেখা যায় একদম ভিন্ন লুকে। কখনো ওজন বাড়ান, কখনো আবার কমান। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। ডা. নিখিল ধুরন্ধরের পরামর্শ অনুযায়ী ‘তারে জামিন পার’ তারকা কড়া নিয়ম মেনে ডায়েট চার্ট অনুসরণ করেন। ইন্ডিয়া টুডেকে আমিরের ঘনিষ্ঠ সূত্র এক সাক্ষাৎকারে জানায়, অভিনেতা প্রতিদিন সবজি ও রুটি খান। আর পরিমাণমতো প্রোটিন।
দীপিকা পাড়ুকোন
নিজের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য একাধিক অভ্যাস পালন করেন ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’খ্যাত তারকা। তার ডায়েট চার্টে থাকে ডিমের সাদা অংশ, গ্রিলড ফিশ, কম ফ্যাটের দুধ, আর প্রচুর সবজি। সাধারণত দক্ষিণ ভারতীয় খাবারে ভাত বা চালের তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস বেশি থাকে। তবে দীপিকা সেদিকে পা বাড়ান না। শরীর ফিট রাখতে নিয়মিত জিমও করে থাকেন।
অক্ষয় কুমার
ফিটনেসের প্রতি জোর বাড়াতে নিজের মতো করে কসরত করে থাকেন অক্ষয় কুমার। তিনি হাই প্রোটিনের ডায়েটের সঙ্গে সবজি খাওয়ায় বিশ্বাসী। বলিউডের খিলাড়ি তারকার খাদ্য তালিকায় থাকে পরোটা, দুধ, হালকা তেলে সেদ্ধ করা সবজি। এছাড়া সকালে ডিমের সাদা অংশ থেকে তৈরি অমলেট খেতে পছন্দ করেন অক্ষয়। চরিত্র অনুযায়ী পর্দায় হাজির হতে প্রতিনিয়ত শরীরের দিকে আলাদা নজর দেন তিনি।
জন আব্রাহাম
তার শরীর নিয়ে বডি বিল্ডিং করা অনেকেই বেশ ঈর্ষান্বিত! তবে বহু বছর ধরে নিজের শরীরকে একইভাবে সুঠাম রেখেছেন জন আব্রাহাম। প্রচুর ফল নিজের ডায়েটে রাখেন অভিনেতা। এছাড়া ডিমের সাদা অংশ নিজের ডায়েটে রাখতে পছন্দ করেন। প্রতিটি সিনেমা করার আগে চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আলাদা করে প্রস্তুতিও নেন।
কারিনা কাপুর খান
মা হওয়ায় কারিনা কাপুর খান আলাদা করে বেবিফ্যাট শরীরে জমতে দেননি। মাতৃত্বের সময়ও ব্যায়ামে বিশ্বাসী ছিলেন, আর মাতৃত্বের পর তিনি জিমে যেতেন ফিটনেসের জন্য। এর সঙ্গে ডায়েটে ভাত রাখতেন। অনেকেই মেদ হওয়ার ভয়ে ভাত খেতে চান না, তবে কারিনা খেয়ে থাকেন খিচুড়ি। এছাড়া মৌসুমি সব ফল রাখেন খাবারের তালিকায়।
মালাইকা অরোরা
ফিটনেসের নিখুঁত ধারায় কার্যত মাত করে দিচ্ছেন মালাইকা অরোরা। বহু বছর ধরে মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এই অভিনেত্রী সকাল শুরু করেন দেশি ডায়েট দিয়ে। নাস্তায় তিনি পোহা, ইডলি, আর মৌসুমি ফল খান। পরবর্তীকালে দিনের বাকি অংশে বিভিন্ন ধরনের বাদাম খেয়ে থাকেন। এর সঙ্গে চলে তার জিম সেশন।
রাধিকা আপ্তে
‘আমি খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে কখনই কঠোর হতে পারি না। মনে হয়, পেটের সঙ্গে, মনের সঙ্গে এ মহা অন্যায়। আমি সব খাই। কিন্তু গাণিতিকভাবে এই সবকিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখি। নাচের প্র্যাকটিস বাড়িয়ে দিই। হাঁটি, সাঁতার কাটি, সাইক্লিং করি। মাঝে মাঝে সফট মিউজিক ছেড়ে ইয়োগা করি। জিমে গিয়ে ব্যায়াম করা আমার পোষায় না। আমি বিশ্বাস করিÑ আমরা যদি একটু বুঝে ব্যালান্স করে খাই, তাহলে কখনই কঠোর ডায়েটের দরকার পড়বে না।’







































