
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের আপোষহীন নেত্রী এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গতকাল ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেছেন বলে জানানো হয়েছে।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন)
আজ ৩১ ডিসেম্বর বাদ জোহর ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে যাতায়াত সুবিধা চেয়ে আবেদন করেন।
শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ডুয়েট প্রশাসন দুইটি বাস বরাদ্দ দেয়। আজ সকাল ৯টায় বাস দুইটি ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য ডুয়েট প্রশাসনের পরিবহন সুবিধা প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বস্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আতিয়ার রহমান বলেন“বেগম জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পরিবহন সুবিধা প্রদান করায় আমরা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান রাহেল বলেন,“খালেদা জিয়াকে দেখলে মনে হতো পঞ্চদশ শতাব্দীর কোনো মুগল শাহজাদী, যাকে বিংশ শতকের সুবেহ বাংলার জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের আশঙ্কা জেনেও তিনি দেশ ছাড়েননি। মৃত্যুকে সামনে রেখেও দেশের মাটিতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।এতিমের টাকা চুরির মতো মিথ্যা অভিযোগ নীরবে বুকে ধারণ করে তিনি কারাবরণ করেছিলেন। কারাগারে মৃত্যুর আশঙ্কা জেনেও তিনি পালাননি। ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তিনি সব লাঞ্ছনা ও নির্যাতন সহ্য করেছেন।শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশ ও মানুষকে ছেড়ে যাননি। যে কথা তিনি দিয়েছিলেন, সেই কথা রেখেই দেশের মাটিতেই নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়ে গেছেন।তিনি বিদায় নিলেন, তার লিগ্যাসি হিসেবে থাকবে অমোঘ বাক্য “ ওদের হাতে গোলামীর জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা।”
জানাজায় অংশ নিতে ডুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকায় যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।





























