
নির্ধারিত মেয়াদের দেড় মাস আগেই নতুন কমিটি হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে সংগঠনটির পুরোনো কমিটি। শুধু ছাত্রদলই নয়, সব সংগঠনই ঢেলে সাজানো পরিকল্পনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। শীর্ষ নেতার কাছে যাচ্ছে সবশেষ আন্দোলন নিয়ে মূল্যায়ন রিপোর্ট। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে নানা অভিমত তুলে ধরছেন সাংগঠনিক নেতারাও। এগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে হাইকমান্ড সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, সংগঠন হালনাগাদ করা চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু এবার এর নতুন পটভূমি তৈরি হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর ঘিরে।
বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখা কমিটি গঠিত হয়েছে। কেন্দ্রে রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন গণেশ চন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে নাহিদুজ্জামান শিপনকে। গত শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটি গঠনের কথা জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
হঠাৎ কমিটি গঠন ও তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম বর্তমানে একটি পর্যায়ে রয়েছে। এটিকে বেগবান ও কার্যকর করতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনে করেছেন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। নতুন নেতৃত্ব মানেই সংগঠন গতিশীল হওয়া। লড়াই করার অদম্য শক্তি সঞ্চার হওয়া। সংগঠনে থাকা ১১৮টি ইউনিট ক্রিয়াশীল হওয়া।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক বলেন, সামনে রোজা। একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সারা দেশে ছোট পরিসরে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করার নির্দেশনা রয়েছে। এতে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ফের যোগাযোগ বাড়ানো হবে। আর মনে হচ্ছে ঈদের পর সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ সব কমিটি ভেঙে দেওয়া হতে পারে। এর ফাঁকে ফাঁকে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে মার্চে বিক্ষোভসহ ভিন্নধর্মী কিছু কর্মসূচি দেওয়ারও চিন্তা রয়েছে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সংগঠনে রদবদল কিংবা পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। হ্যাঁ, এবার ভিন্ন পটভূমি আছে। বড় একটি আন্দোলন গেছে। টানা বড় কর্মসূচি মানে সংগঠনের ঘাটতি ও দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে বিগত দিনের মূল্যায়ন রিপোর্ট উপস্থাপন করা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনা করে দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
সংগঠন পুনর্গঠনের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মামলা, মুক্তি ও তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বিএনপি। মামলা-মোকাদ্দমা পরিচালনা ও ব্যয়ভার বহন করছেন দায়িত্বশীল নেতারা। এখনও অনেকে কারাবন্দি। তাদের মুক্তিতে আরও সময় লাগবে বলে জানান নেতারা।
কূটনীতিতেও মনোযোগ রয়েছে বিএনপির। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায় দলটি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তারের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট ও এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) প্রতিনিধি দল ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বৈঠকে অংশ নেন।
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। তাদের পর্যবেক্ষণ অন্যদের থেকে আলাদা। সবদিক বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেয়।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি তো আমরা নির্ধারণ করতে পারব না। আমাদের কাজ বিদেশিদের সামনে দেশের অবস্থা ও জনগণের আকাক্সক্ষার কথা তুলে ধরা। এরপর সিদ্ধান্ত তাদের। বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই বাংলাদেশের জন-আকাংখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আমরা কথাবার্তা বলছি। সামনে আরও হবে। এ নিয়ে তাড়াহুড়ার কিছু নেই বলে আমি মনে করি।
এদিকে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকে একেবারেই গণমাধ্যম থেকে দূরে আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও শনিবার তিনি গণতন্ত্র মঞ্চ ও ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা বলেছেন, পৃথক বৈঠকে বিগত আন্দোলন-কর্মসূচির বিষয়ে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা ছাড়াও চলমান আন্দোলন এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে তাদের কথাবার্তা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া জেএসডির তানিয়া রব বলেন, দুয়েক দিনের মধ্যে মির্জা ফখরুল চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। এর আগে আমরা তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম। রাজনীতি নিয়ে তেমন কোনো কথা হয়নি। এটি মূলত তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। চেকআপ শেষে ফিরে মির্জা ফখরুল আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে কথা বলবেন।







































