
সাদেকুল ইসলাম সুবেল,
বিরল(দিনাজপুর)প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরলে দাদন ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে আছে এক ইউনিয়নের প্রায় ১০০,টি পরিবার সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে নিস্ব হয়ে গেছে অনেকে গ্রামবাসীর দাবী সুদের টাকা সময়মত পরিশোধ না করতে পেরে প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ী মো: মনিউল ইসলাম মুনির হুমকিধামকি ও নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে ১,বছরের ব্যবধানে পাশাপাশি দুইটি গ্রামে আত্মহত্যা করেছে ৩জন। গত ১৫ জুলাই (সোমবার) উপজেলার ৬নং ভান্ডারা ইউনিয়নের উত্তর ভান্ডারা গ্রামের মৃত পেবো রায় এর পুত্র দুয়ারু চন্দ্র রায় (৬৫) কীটনাশক জাতীয় গ্যাস ট্যাবলেব খেয়ে আত্মহত্যা করে এক পুত্র ও দুই কন্যা নিয়ে সুখী সংসার ছিলো দুয়ারু চন্দ্র রায় এর ছিলোনা কোন পারিবারিক কলহ হটাৎ কি কারণে বেছে নিলেন আত্মহত্যার পথ, এ ঘটনা জানার পরে এলাবাসীর অনেকের দাবী সুদের টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় তাকে তুলে নিয়ে যাবে বলে হুমকি দেয় মুনির, লজ্জার পরিবার এর সাথেও বিষয়টি শেয়ার করতে পারেনি সুদের টাকা চাপেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে দুয়ারু চন্দ্র রায় বলে দাবী এলাকাবাসীর অনেকের। এছাড়াও জানা যায় এক বছর এর মধ্যে ভান্ডারা কালীতোলা গ্রামের কাঠু আর্মীর ছেলে মো: বাংকু (৩৫), ও ভান্ডারা উত্তর পাড়ার মতিন এর ছেলে সত্যজিত উতফল (২৮) সুদের টাকা পরিশোধ করাে না করতে পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। ভুক্তভোগীরা জানায় ১ হাজার টাকায় প্রতি সপ্তাহে ২০০ টাকা করে সুদ পরিশোধ করতে হয়। এভাবে ১০ হাজার টাকায় টাকায় প্রতিসপ্তাহে ২ হাজার টাকা দিতে হয় বাধ্যতা মূলক। সময়মত সুদের টাকা পরিশোধ না করলে দাদন ব্যবসায়ী মুনির এর ১০ থেকে ১৫ জনের গুন্ডা বাহিনী বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন হুমকিধামকি দেয় প্রয়োজনে মারপিট ও করেন। টাকা নেয়ার আগেই দিতে হয় ফাকা স্টাম্পে সই সুদের টাকা দিতে বিলম্ব করলে মন মতো অংক বসিয়ে মামলা দেয়ার হুমকি দেয় তাই আমরা অসহায় মানুষ কিছু করতে না পেরে তাদের হিসেব অনুযায়ী সুদের টাকা পরিশোধ করতে করতে নিস্ব হয়ে গেছি।
ভান্ডারা পাগলাপীর বাজার এর ভুক্তভোগী শ্রী জয়রাম (৩৬) জানায় আমি বিপদেপরে ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছি মুনির এর কাছে ৩ মাসের ব্যবধানে ৬১ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি এর পরেও এখনো ৬০ হাজার টাকা তারা পাবে বলে আমাকে হুমকি দিচ্ছে টাকা না দিলে আমাকে তুলে নিয়ে যাবে।
ভান্ডারা কালীতোলা গ্রামের দিনেশ চন্দ্র সরকার বলেন আমি পারিবারিক প্রয়োজনে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ছিলাম ৪ মাসের ব্যবধানে ৪০ হাজার টাকা সুদ সহ মোট ৯০ হাজার টাকা আমার এলাকার সাবেক মেম্বার আতিউর সহ বাধ্য করে করে নিয়েছে আমার কাছে। ভান্ডারা উত্তর পাড়ার মানিক (ঢোলুয়া) জানায় আমি ১ বছর আগে হরেন এর মাধ্যমে মুনির এর কাছে ২ হাজার টাকা নিয়েছিলাম সুদ বাবদ ১ হাজার টাকা দিয়েছি পরে সুদের টাকা না দিতে পারলে আমার চালিত হিরো বাই সাইকেল টি ভান্ডারা পাগলাপীর বাজার থেকে মুনির এর পার্টনার রইসুল জোর করে তুলে নিয়ে যায় পরে আমাকে বলে তোকে সুদ আসল সহ মোট ২০ হাজার টাকা দিতে হবে নাহলে তোকে তুলে নিয়ে যাবো বলে হুমকি দেয় এ নিয়ে আমি খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি বাসা থেকে বের হইনা বাজারেও তেমন যাইনা আপনারা আমাদের কে এর হাত থেকে বাঁচান। গত সোমবার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করা দুয়ারু চন্দ্র রায় এর ছেলে তপন চন্দ্র রায় জানায় আমার বাবা সাথে আমার পরিবারের কারও সাথে কোন ঝগড়া কলহ ছিলোনা হটাৎ কি কারনে বাবা আত্মহত্যা করলেন তা আমরাও বুঝতে পারছিনা তবে এলাকার লোক মূখে শুনছি বাবা'র ঋণ সুদের টাকার চাপ ছিলো। তবে এ বিষয়ে বাবা আমাদের কিছু জানায়নি তাই এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারতেছিনা না।
জানা গেছে দাদন ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম মনির (৪৬) ১০ নম্বর রানীপুকুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের খোরশেদ আলী মাষ্টার এর ছেলে।
তার ব্যবসায়ীক সহযোগী রাঙ্গন গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮) বিরল ৫ নম্বর ইউনিয়নের রবিপুর রইসুল ইসলাম (৩৮) ভান্ডারা গ্রামের আইনুল ইসলাম সহ আরও কয়েকজন রয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিউল ইসলাম (মুনির) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি টাকা'র ব্যবসা করি এটা সত্যি তবে দুয়ারু নামে যে ব্যাক্তি মারা গেছে তাকে আমি টাকা দেয়নি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি আমার কোন লোকের কাছেও সে টাকা নেয়নি।
এ বিষয়ে ভান্ডারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ জানায় এই ধরনের বিষয়ে আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ রয়েছে বিশেষ করে আমাদের ইউনিয়নে সুদের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে এতে করে মানুষ আত্মহত্যার পর্যায় চলে যাচ্ছে ইতিমধ্যে আমি জানতে পেরেছি যারা এই দাদন ব্যবসার সাথে যারা যারা জ্বরিত তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকবো যারা সরাসরি এই ব্যবসার সাথে সমপ্লিক্ত প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো এছাড়াও যারা ভুক্তভোগী তাদেরকেও ডাকবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বহিৃ শিখা আশার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এব্যাপারে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করে নাই। অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মাওলা শাহ জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ, সাধারণ মানুষকে ঋণের ফাঁদে ফেলে সর্বশান্ত করছে। তবে কেউ এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করে নাই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এব্যাপারে বিরল উপজেলা সমবায় অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, সমবায় নীতিমালা বা সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোন সংগঠন বা ব্যাক্তির ঋণ কার্যক্রম চালানোর কোন প্রকার বৈধতা নাই।





























