
মো আনিছুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সড়ক পথে কাউতলীয় হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় ঢুকতেই চোখ আটকায় একটি দেয়ালে। যেখানে কিছু একটা লেখা হচ্ছে। কাছে এগুতেই দেখা গেলো লেখাগুলো ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির করা বিভিন্ন উক্তি।
সোমবার বিকেলে ডিসি বাংলোর উল্টোদিকের দেয়ালে লিখছিলেন মো. নজরুল ইসলাম নামে এক যুবক। বললেন, ‘গত দু’দিন ধরে আমি বিভিন্ন দেয়ালে শহীদ ওসমান বিন হাদির উক্তি লিখছি। আমরা চাই হাদি ভাইয়ে উক্তি, চেতনা যেন বেঁচে থাকে। তাঁর এ উক্তি দেখে আমাদের মাঝে যেন চেতনা জাগ্রত হয়। মানুষের মাঝেও যেন তার চেতনা জাগ্রত হয়।’
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কাউতলী এলাকার ওই দেয়ালের পাশাপাশি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের দেয়ালেও এসব উক্তি লেখা হয়েছে। আরো কিছু জায়গায় হাদির উত্তি লেখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পথচারিরা অনেকেই আগ্রহ ভরে দেয়ালের এসব লেখা দেখছেন। আঁকার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে অনেকে কথা বলছেন।
দেয়ালে দেয়ালে লেখা ছিলো, ‘জান দেবো, জুলাই দিব না’, ‘আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে’, ‘একটা ইনসাফের হাসি নিয়ে আমি আল্লাহর কাছে পৌঁছাতে চাই’, ‘আমি হাসতে হাসতে আল্লাহ’র কাছে ভীষণ সন্তুষ্ট নিয়ে পৌঁছাতে চাই, আমি যেন একটা নুন্যতম ঐ জীবনটা লিড করতে পারলাম।’ মৃত্যুর আগে শরিফ ওসমান বিন হাদি বিভিন্ন সময়ে এসব কথা বলেছেন, যা তিনি গুলিতে নিহত হওয়ার পর সারাদেশে আলোচিত হয়। হাদি হত্যাকারিদের বিচার দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগানে এসব উক্তি দিয়ে শ্লোগান দেওয়া হয়।
কাউতলী এলাকায় দেয়াল লিখনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মো. আল-আমীন বলেন, ‘উদ্যোগটি খুব ভালো। শহীদ হাদি ভাইয়ের অনেক কথা ভাইরাল হয়েছে। ওনি আমাদের হৃদয়ে আছেন। তারপরও এ ধরণের উক্তি দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হবো।’
ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে দেয়াল লিখনের কাজ চলছে জানিয়ে এর অন্যতম উদ্যোক্তা শেখ আরিফ বিল্লাহ এ প্রতিবেদকে বলেন, ‘জুলাই গণঅভুত্থাণের অন্যতম মহানায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি লড়াই-সংগ্রামের কাজ করেছেন। আমরা হাদি ভাইকে আদর্শ হিসেবে গ্রহন করেছি। তিনি বিভিন্ন সময়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন এর গুরুত্বপূর্ণ খন্ডাংশ আমরা দেয়ালে লিখছি। এসব উক্তি কালজয়ী ও হৃদয়স্পর্শী। পথচারিরা যখন এসব লেখা পড়বে তাতে ওনার প্রতি দোয়া ও ভালোবাসা আসবে এবং দেশ গড়ার বিষয়ে তাঁর যে অবস্থান ছিলো সেটা সবাই জানতে পারবে। ইতিমধ্যে এ কার্যক্রম অনেকের কাছে প্রশংসা পেয়েছে।





























