
বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেনের বিরুদ্ধে স্বে”ছারিতার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকরা। এ ব্যাপারে তারা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা যায়। গত ১৯ নভেম্বর ৫ম শ্রেণির মডেল টেস্ট পরীক্ষা, ১ম, ২য়, ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছিল ভুলে ভরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন গত বছর ২ জুলাই যোগদানের পর থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বে”ছাচারিতা, কিছু সংখ্যক নারী শিক্ষকদের প্রতি সু-নজরসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর ৫ম শ্রেণির মডেল টেস্ট পরীক্ষা, ১ম, ২য়, ৩য় প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ব্যাপক ভুল পরিলক্ষিত হয়।
এ ব্যাপারে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শিক্ষক অভিভাবকরা নেতিবাচক পোস্ট দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনি”ছুক একজন শিক্ষক বলেছেন, প্রশ্নপত্র ভুল এটা নতুন নয়, চলতি বছরের মডেল টেস্ট, ১ম, ২য়, ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায়ও প্রচুর ভুল ছিল প্রশ্নপত্রে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য নির্দিষ্ট উপজেলা কমিটি থাকলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন তা পাশ কাটিয়ে গুটিকয়েক আজ্ঞাবহ শিক্ষক নিয়ে এ ধরনের পরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারিভাবে মডেল টেস্ট নেয়ার কোন নির্দেশনা না থাকলেও প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ৮০ টাকা হারে ফি নিয়ে এ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। চলতি বছর গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী ১৪টি বিষয়ে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে জেলায় ২জন শিক্ষকের নাম পাঠানোর কথা থাকলেও তিনি কোন রকম যাচাই-বাছাই বা প্রচার প্রচারণা না করে তার আনুগত্য ২ জন শিক্ষকের নাম প্রেরণ করায় শিক্ষকের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উপজেলার ৯১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ জন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা, ৪৩ জন প্রধান শিক্ষক, ২১ জন সহকারি শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।
গত ২০২৫ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪২ জন শিক্ষককে যোগদানের সময় ৮’শ টাকা করে অফিস খরচ দিতে হয়েছে। ৭১৩ জন শিক্ষকের সার্ভিস বুক, পদোন্নতির ফাইল পত্র তৈরী করতে প্রতি শিক্ষক থেকে ১’শ থেকে ৩’শ টাকা আদায় করা, শিক্ষকদের অনলাইন বদলির প্রস্তাবনা পাঠাতে প্রতি শিক্ষক থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায়, ২০১০ সালে যোগদানক...ত ৫৭ জন শিক্ষকের ইনক্রিমেন্ট সমতার কাজ সম্পন্ন করতে প্রতি শিক্ষক থেকে ২ হাজার ৫’শ টাকা আদায় করা হয়। ৭ জন শিক্ষক টাকা না দেয়ায় তাদের কাজ ১৫ দিন পরে পুনরায় টাকা দিয়ে করতে হয়েছে। ৮টি বিদ্যালয়ের মাইনর মেরামতের ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ২০ হাজার টাকা, ২টি বিদ্যালয়ে দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ঝরাজীর্ণ ভবন নিলাম, পুরানো ব্যাঞ্চ, টেবিল বিক্রয়ের নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।
২০২৫ সালে নতুন বই বিতরণকালে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ৪’শ টাকা হারে এবং কিন্ডার গার্টেন স্কুল থেকে ৭’শ টাকা হারে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে স্লিপ এর প্রথম পর্যায়ে অর্থ ছাড় দেয়ার সময় ৯১টি বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার টাকা, ২য় পর্যায়ে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার টাকা, চলতি বছর ৫৫টি বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে ল্যাপটপ প্রদান করার সময় বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার টাকা, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টের বিতরণকালে ৮০টি বিদ্যালয় থেকে ৮০ হাজার টাকা, ওয়াশব্লক, ম্যাইনটেন্যান্স কার্যক্রমের ১০ টি বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৭’শ জন শিক্ষকদের আয়কর রির্টান দাখিলের জন্য প্রত্যয়ন পত্র দিতে প্রত্যেক শিক্ষক থেকে ৫০ থেকে ১’শ টাকা আদায়ের পাশাপাশি মাসিক সমন্বয় সভায় শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করা, কারণে অকারণে শিক্ষকদের শোকজ নোটিশ দিয়ে টাকা আদায় করা, চলতি বছর ৫ জন শিক্ষককে পদায়ন করে ১০ হাজার টাকা করে আদায়, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদান করার সময় জনপ্রতি ২ হাজার টাকা, ১০১ জন শিক্ষক শান্তি বিনোদন ভাতা প্রাপ্তির সময় প্রত্যেক শিক্ষককে ৫’শ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সরকার কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পাঠদান অনুমোদনের নির্দেশ দিয়েছেন। সে বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে চন্দনাইশের ৩৪টি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্রত্যেকটি থেকে ১০ হাজার টাকা করে দাবী করেছেন তিনি। শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন কিছু কিছু মহিলা শিক্ষকদের নিকট থেকে গোপনে অর্থ ধার নিয়ে ফেরত না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া তার স্ত্রীর ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলে যোগাযোগ করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তার এ সকল অপকর্মের সাথে ২জন শিক্ষক সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষকেরা।
এ ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।





























