
প্রশান্ত দাস কথা: প্রত্যেক দিনই কোনো না কোনো দেব-দেবীর পুজো করে থাকি। কিন্তু হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে তার সঠিক দিনে পূজা করা উচিৎ। বিশেষ দিনগুলোতে সেই সকল দেব-দেবীর পূজা করতে হয়।
পুরাণ মতে আসলে সপ্তাহের কোন দিন কোন দেবতার পূজা করা উচিৎ তা জানা থাকা প্রয়োজন। হিন্দু ধর্ম অনুসারে প্রত্যেকই কোনো না কোনো দেব-দেবীর পূজা করে থাকেন। শনিবার-শনি দেবতার পূজা করা হয়। রবিবার সূর্য দেবতার দিন। এই দিন সূর্যের পূজা করা হয়। এই দিনে উপবাস করলে সূর্য ওঠার আগে ও সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে খাবার খেয়ে থাকেন। সোমবারের মাহাত্ম আমাদের প্রত্যেকেরই জানা আছে। সোমবার মানেই শিবের বার। অর্থাৎ নির্দিষ্ট এই দিনে শিবের পূজা করা হয়। মহাদেবকে তুষ্ট করতে অনেক পূণ্যার্থীই এই দিন উপবাস করে থাকেন। মঙ্গলবার কোনো একজন দেবতার নয়, বেশ কয়েকজন দেবতার পূজা করা হয়। এই দিন সিদ্ধিদাতা গনেশ, কালী এবং হনুমানের পূজা করা হয়। যারা এই দিন ব্রত করেন, তারা খাবারে লবণ দেন না। লবণ ছাড়া খাবার খান। বুধবার- এই দিনে ভগবান ভিথালের পূজা করা হয়। এই দেবতা ভগবান বিষ্ণুর আর এক রূপ। এই দিন অনেকেই নতুন কাজ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার মানেই লক্ষ্মীবার। এই দিন লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। ধন সম্পত্তি, অর্থ, প্রতিপত্তি, ব্যবসায়ে শ্রী বৃদ্ধির জন্য বৃহস্পতিবারে লক্ষ্মীর আরাধনা করে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা শুরু করেন। শুক্রবার- মঙ্গলবারের মতো শুক্রবারেও একাধিক দেবতার পূজা করা হয়। এই দিন দেবী মহালক্ষ্মী, সন্তোষী, দুর্গা এবং দেবী অন্নপূর্ণার পূজা করা হয়।
যদি এক মনে মায়ের পূজা করতে পারেন এবং সেই সঙ্গে জপ করতে পারেন মন্ত্রগুলি, তাহলে মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূরণ হতে দেখবেন সময় লাগবে না। সেই সঙ্গে যে কোনো ধরনের সমস্যাও কমে যাবে চোখের পলকে। ফলে জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে উঠবে। শুধু তাই নয়, মিলবে আরো অনেক উপকার।
ভূ-লোকে রিদ্ধি-সিদ্ধি লাভের জন্য একটি মহাকুঞ্জিকা রচনা করেন মহাগৌরী পার্বতী। তিনি বলেন, তার যে ভক্ত তাকে স্মরণ করে এই মন্ত্র উচ্চারণ করবে, সে এই সংসারে জীবন সুখ-শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করবে।
মন্ত্রটি হল- ওম এং হ্লীং ক্লীং চামুণ্ডায়ৈ ভিচ্চে। ওম গৌং হুং ক্লীং জুং সঃ জ্বালয় জ্বালয় জ্বল জ্বল প্রজ্বল প্রজ্বল এং হ্লীং ক্লীং চামুণ্ডায়ৈ ভিচ্চে জ্বল হং সং লং ক্ষং ফট্ স্বাহা। নমস্তে রুদ্ররুপিণ্যৈ নমস্তে মধুমর্দিনী। নমঃ কৈটভহারিণ্যৈ নমস্তে মহিষার্দিনী।
দেখতে দেখতে এবছরের দুর্গাপূজার সময় চলে এসেছে। হাতে মাত্র আর কয়েকটা দিন পরেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সেরা উৎসব। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবথেকে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গোৎসব বা শারদীয়া উৎসব।
পূরাণ মতে জানা যায়, দুর্গাপূজায় দেবী দুর্গা কৈলাশ থেকে বাপের বাড়িতে আসেন। উৎসবের সূচনা হয় মহালয়ার মধ্য দিয়ে। মহালয়া অর্থাৎ পিতৃপক্ষের শেষ হয়ে মাতৃপক্ষের সূচনা। দুর্গাপূজার মতোই মহালয়ার গুরুত্বও অপরিসীম।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী মনে করা হয়, দেবীর দুর্গার মর্তে আগমন ও গমন যে বাহনে, তার ওপর নির্ভর করে গোটা বছরটা পৃথিবীবাসীর কেমন কাটবে। এবছর দেবী দুর্গার আগমন গজে, যার অর্থ শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা। দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরবেন নৌকায় যার অর্থ শস্য বৃদ্ধি ও জল বৃদ্ধি।
পাঁচদিন ধরে চলে দুর্গাপুজোর এই মহা উৎসব। মহাষষ্ঠী থেকে শুরু। শেষ হয় বিজয়া দশমীতে। বাড়িতে বাড়িতে অতিথিদের আগমন লেগে থাকে। মিষ্টি মুখ থেকে চলে খাওয়া দাওয়া। সমস্ত মানুষের সঙ্গে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় উৎসবের জন্য সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকেন। এ বছর দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে অক্টোবর মাসের প্রথম দিন থেকে।
শাস্ত্রমতে, দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীর দিন বোধন হয়। মহাসপ্তমীতে হয় নবপত্রিকা স্নান। মহাঅষ্টমীতে হয় সন্ধি পূজা। এইদিন দেবী দুর্গাকে ১০৭টি পদ্মফুল দিয়ে পূজা দেওয়া হয়। তার সঙ্গে ১০৭টি প্রদ্বীপ জ্বালানো হয়। মহানবমীতে হয় হোম এবং ভোগের ব্যবস্থা থাকে। সিঁদুর খেলা থেকে বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয় বিজয়া দশমী।
আগামী বছর আবারো মা আসবেন আমাদের মাঝে এই প্রত্যাশা নিয়ে আশায় বুক বাধে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
লেখক: সাংবাদিক ও উপস্থাপক।







































