
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের ইছাপুর–রথখোলা সড়কে এমপি কোটার আওতায় নির্মিত কার্পেটিং কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২০–২১ অর্থবছরে আইআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৮ লাখ ৫৮ হাজার ৯শত টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ১৪০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সিডিউল ও মানদণ্ড উপেক্ষা করে নিম্নমানের বালি, খোয়া ও পিচ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাস্তার বেস প্রস্তুত না করেই অপরিষ্কার ও খোয়া মিশ্রিত বালুর ওপর কার্পেটিং করা হয়, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জানা গেছে, মেসার্স মজমল বাহারাইন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ওয়াহিদুল ইসলামের নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও বাস্তবে সালাম নামের এক ব্যক্তি কাজটি তদারকি করেন। কাজ চলাকালে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রকৌশলীদের যথাযথ তদারকি না থাকায় অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ।
সরেজমিনে কাজ চলাকালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী রমেশ ও সাতক্ষীরা এলজিইডি কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী হাসাইন উপস্থিত থাকলেও তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কীভাবে কাজের মান যাচাই করেছেন—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পরে এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তার উপস্থিতিতেই তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং কাজ শেষ করে ফেলা হয় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন,
“২০২০–২১ অর্থবছর ছিল করোনাকালীন সময়। তখন কম রেটে টেন্ডার হওয়া কাজ এখন বেশি রেটে করতে গিয়ে ঠিকাদাররা সমস্যায় পড়ছে। অনেকেই কাজ না করে চলে গেছে। আমরা অনুরোধ করে কাজগুলো করাচ্ছি—এ কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে।”
অন্যদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, টেন্ডার চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করে অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে দ্রুত কাজ শেষ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ওয়াহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমার লোক সেখানে রয়েছে। এসব বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলুন।”
এলাকাবাসী অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





























