
মোহাম্মদ নান্নু মৃধা, শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন হলেও এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান পদে বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছেন হাসিনার ঘনিষ্ঠ দোসর সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইতালি আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কিবরিয়া গোলাম মোহামাদ ওরফে জি এম কিবরিয়া। ফ্যাসিস্টের আরেক দোসর কিবরিয়ার স্ত্রী সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হোসনে আরা বেগমকে কাগজে কলমে কোম্পানির ওভারসিজ এজেন্সি ডিরেক্টর বানিয়ে কমিশনের নামে পাচারের মাধ্যমে লুটে নিয়েছে বিপুল অংকের অর্থ। যার প্রধান সহযোগী কোম্পানির বিতর্কিত সিইও ও আওয়ামী লীগের আরেক অর্থদাতা শাহ্ জামাল হাওলাদার।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফ্যাসিস্টের অর্থায়নকারী জিএম কিবরিয়া ও তার স্ত্রী হোসনে আরাকে ২০২১ সালে উপঢৌকন হিসেবে এই লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটির লাইসেন্স দেয় পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। লাইসেন্স পেয়েই এনআরবি ইসলামিক লাইফ থেকে নানা উপায়ে অর্থ বের করত ফ্যাসিস্টের অর্থায়নকারী গোলাম কিবরিয়া। যে কারণে প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মাথায় নানা অনিয়মে খাদের কিনারে এসে পড়েছে কোম্পানিটি। ঝুঁকির মুখে পড়েছে বীমা গ্রাহকদের আমানত। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তদন্তেও উঠে এসেছে কোম্পানিটির নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের চিত্র।তবে অনুমোদনহীন বীমা পরিকল্প বিক্রি, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, পলিসি তামাদির উচ্চহার, ক্যাশ ইন হ্যান্ডের নামে অর্থ আত্মসাত, একক প্রিমিয়ামকে মেয়াদি বীমা দেখিয়ে ব্যাপক তহবিল লোপাট, সম্পদ বিনিয়োগে অনিয়মসহ নানা দুর্নীতি আর কেলেঙ্কারির বোঝা নিয়ে এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও পদে বহাল তবিয়তেই আছেন শাহ্ জামাল হাওলাদার। অথচ তার বিরুদ্ধে সবগুলো অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে খোদ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনে। এসব অভিযোগে কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী পদে শাহ্ জামাল হাওলাদারের পুনঃনিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন না দিয়ে নাকচ করেছে আইডিআরএ। পুনঃনিয়োগের প্রস্তাব নামঞ্জুরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ২০২৪ সালের ১০ জুন কোম্পানিটির চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠান আইডিআরএ’র পরিচালক আহম্মদ এহসান উল হান্নান।আইডিআরএ’র ওই চিঠিতে শাহ জামাল হাওলাদার কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ এবং দেউলিয়া পর্যায়ে নিয়ে গেছেন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি আর্থিক অনিয়ম ও অপচয়ের মাধ্যমে কোম্পানি ও গ্রাহক স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করেছেন, একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন বলে আইডিআরএ উল্লেখ করেছে। আইডিআরএ’র ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মো. শাহ জামাল হাওলাদারের প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় বীমা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কর্মকান্ড পরিচালিত হয়েছে। যা কোম্পানি এবং বীমা গ্রাহকদের স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তবে আইডিআরএ’র ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন শাহ জামাল হাওলাদার। রিটের শুনানি নিয়ে ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই রুলসহ আইডিআরএ’র সিদ্ধান্তে ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শাহ জামাল হাওলাদারের মুখ্য নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালনে ৬ মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি করে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। তবে ওই স্থগিতাদেশের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে কী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে আইডিআরএ’র উপ-পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সোলায়মান জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তিতে আইডিআরএ আইনি সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শিগগিরই আদালতে এটি শুনানি হবে বলে আশা করছি। আইডিআরএ যেসব কারণে মুখ্য নির্বাহী পদে শাহ জামাল হাওলাদারের পুনঃনিয়োগের প্রস্তাব নামঞ্জুর করছে আদালতে সেসব যুক্তি উপস্থাপন করা হবে।এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানকে পাঠানো আইডিআরএ’র ১০ জুন ২০২৪ এর ওই চিঠিত বলা হয়, “সূত্র উল্লিখিত স্মারকে বীমা আইন ২০১০ এর ৮০ ধারা এবং বীমা কোম্পানি “মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ” প্রবিধানমালা-২০১২ এর আলোকে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে জনাব মো. শাহ জামাল হাওলাদারকে ৩ (তিন) বছরের জন্য পুনঃনিয়োগ অনুমোদনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করে। আবেদনের সাথে সংযুক্ত তথ্যাদি ও প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বিগত মেয়াদে জনাব মোঃ শাহ্ জামাল হাওলাদার এর প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় বীমা আইন ২০১০





























