
আব্দুস সামাদ আফিন্দী, বিশেষ প্রতিনিধি ::
দীর্ঘ ১৬ বছর পর সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পুনরায় অনুষ্ঠিত হলো সরকারি জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের পরীক্ষায় উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক ও ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ২৯৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে দ্বিতীয় দিনে ২৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপজেলার ৬টি মাদরাসা থেকে মোট ৫১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয় জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও নওয়াগাঁও অষ্টগ্রাম ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা কেন্দ্র।
জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিধান ভূষণ চক্রবর্তী। হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আলাউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌফিকুল ইসলাম তালুকদার এবং সহকারী হল সুপার হিসেবে ছিলেন জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু হেনা মোস্তফা জামান।
দীর্ঘদিন পর এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক পরীক্ষা জামালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে এটিকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। এর আগে ২০০৯ সালের পর জেএসসি-জেডিসিপ্রথা চালু হওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই বিশেষ বৃত্তি পরীক্ষা। এবারের নীতিমালায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে, যার ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য সংরক্ষিত।
কেন্দ্র সচিব বিধান ভূষণ চক্রবর্তী বলেন“দীর্ঘ ১৬ বছর পর জামালগঞ্জে সরকারি জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন,
“দীর্ঘ ১৬ বছর পর জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারি জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়াবে।তিনি আরও বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নজরদারি রাখা হয়েছে।





























