
মোঃ সাইফুল ইসলাম
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আসন্ন রোযার ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততায় নির্ঘুম দিন কাটাচ্ছে রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া জামদানী পল্লীর তাঁতী, ব্যবসায়ী, উদ্যেক্তারা। গ্রাহকের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরী করছে বিভিন্ন ডিজাইনের জামদানী শাড়ী, থ্রি পিছ, টু পিছ, পাঞ্জাবী। ঈদ যতই নিকটে চলে আসছে জামদানী বেচা বিক্রি ততটাই বাড়ছে তবে চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত বিক্রি হচ্ছে না বলে জানান জামদানী ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন- এখনো ঈদের ছোয়া লাগেনি নোয়াপাড়া জামদানী পল্লীতে, জমে উঠেনি জামদানী পন্যের ঈদ বাজার। তবে শীগ্রই জমে উঠবে জামদানীর ঈদ বাজার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুনশান নীরবতা জামদানী পল্লীতে, গ্রাহকের পরিমান তুলনামূলক কম৷ তবে জামদানীর শো রুম গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমানের জামদানী পন্য মজুদ আছে, দিন রাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন জামদানী শিল্পের কারিগর, সহকারীরা। প্রতিটি কারখানায় কাকডাকা ভোর থেকে মধ্যেরাত পর্যন্ত চলছে শাড়ী বুননের কাজ।
জামদানীর ঈদ বাজার নিয়ে কথা হয়- সুমাইয়া জামদানী হাউজের মালিক ও নারী উদ্যেক্তা সুমাইয়া আক্তারের সাথে, তিনি জানান- ঈদকে কেন্দ্র করে নোয়াপাড়া জামদানী পল্লীতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রতিটি কারখানার তাতী, মালিক এবং বিক্রয় কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত পণ্য ও সেবা দেয়ার জন্য। সুমাইয়া জামদানীতে প্রায় শতাধিক নকশার দুই হাজারে বেশী জামদানী শাড়ির কালেকশন আছে। গ্রাহকদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বনিম্ন দুই হাজার থেকে দুই লক্ষ টাকা মূল্যের শাড়ী আছে তাদের কাছে। এই বিষয়ে সোহাগ জামদানী উইভিং এর সত্ত্বাধিকারী সোঃ সোহাগ হোসেন জানান- পারিবারিক ভাবে এই পেশা ও ব্যবসার সাথে জড়িত তিনি, নিজস্ব কারখানায় দক্ষ কারিগরদের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে তারা প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। জামদানী শাড়ী যেহেতু একটু বেশী মূল্যের তাই এখন পর্যন্ত আশানুরূপ গ্রাহক দেখা যাচ্ছে না, অন্যান্য বছরের চেয়ে এই ঈদে বেচাকেনা একটু কম, তবে অনলাইনে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, অনলাইনের মতো অফলাইন অর্থাৎ বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতেও খুব দ্রুত জামদানীর ঈদের বাজার জমে উঠবে বলে তিনি আশা করেন।
জামদানী শিল্পনগরী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান- নোয়াপাড়া জামদানী পল্লীতে ৪২০ টি প্লট আছে, প্রতিটি প্লটে নিয়মিত তৈরী হচ্ছে জামদানী পন্য। ঈদকে সামনে রেখে নোয়াপাড়া জামদানী পল্লীর প্রতিটি বিক্রয় কেন্দ্র ব্যাপকভাবে প্রস্ততি নিয়েছে। এই পল্লীতে প্রতি শুক্রবার ভোর ৫ টা হতে সকাল ৯ টা পর্যন্ত জামদানীর হাট বসে, সাপ্তাহিক এই হাটে এক থেকে দেড় কোটি টাকার জামদানী পন্য ক্রয় বিক্রয় হয়। এই ঈদে ১২০/১৩০ কোটি টাকার জামদানী বিক্রির হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





























