
ইয়ার রহমান আনান : কক্সবাজার ব্যুরোকক্সবাজারের চকরিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। অভিযোগের তীর সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের দিকে। স্থানীয়দের দাবি,খোদ নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের মদদ ও যোগসাজশে তিনি এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। অবৈধ লেনদেন ও এইচটি সংযোগ বাণিজ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে,জাকির হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চকরিয়ার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন ও শিল্পকারখানার এইচটি (হাই ভোল্টেজ) সংযোগকে পুঁজি করে ‘মিশন’ শুরু করেন। নতুন সংযোগ প্রদান,লোড বৃদ্ধি এবং কারিগরি অনুমোদনের নাম করে তিনি ভবন মালিকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরেও সংযোগ প্রতি মোটা অঙ্কের ‘কমিশন’ না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হলেও গ্রাহককে কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। জিম্মি গ্রাহক,আতঙ্কে মুখ খুলছেন না কেউনাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভবন মালিক জানান,বিদ্যুৎ সংযোগের ফাইল ছাড়াতে গেলে তাদের সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে সংযোগ বিলম্বিত করা হয়।একজন ভুক্তভোগী বলেন,দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমার কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বারবার তাগাদা দিলেও কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা হয়রানির ভয় দেখানো হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অভিযোগের সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন,পিডিবির ওয়েবসাইট দেখে আসেন—এই বলে তিনি লাইনটি কেটে দেন।অন্যদিকে,এ সিন্ডিকেটের নেপথ্য কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে এসব অনিয়মের বিষয়ে দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। চকরিয়ার সচেতন মহল মনে করছেন,এই দুর্নীতিবাজ চক্রের কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।





























