
।
মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে ব্যস্ত সময় পার করছে জেলা প্রশাসন। তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা পর থেকেই কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচনী পোষ্টার ও ব্যানার অপসারণ কাজ।
গতকাল সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনায় ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রাস্তার লাইটপোস্ট, দেয়াল ও বিলবোর্ড থেকে পোস্টার অপসারণের কাজ শুরু করে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপস্থিতিতে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১১ টি আসনেই পোস্টার-ব্যানার অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এর আগে প্রার্থীরা কিছু পোস্টার ব্যানার নিজেরা সরিয়ে ফেললেও বাকি যেগুলো আছে সেগুলো অপসারণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা প্রশাসন।
তিনি আরো জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য কুমিল্লার ১১ টি আসন পর্যবেক্ষণে ইতোমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ মাঠে রয়েছেন। নির্ধারিত সময় ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ও জানান তিনি।
এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ধরনের পোস্টার ও ব্যানার অপসারণের নির্দেশনা দেয় কমিশন।
এর আগে কিছু কিছু পোষ্টার ব্যানার প্রার্থীদের নিজ উদ্যোগে খোলা হলেও শহর ও উপজেলা শহরের বেশিরভাগ এলাকায়ই তা রয়ে গেছে। যে কারনে রবিবার সকাল থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা আল-আকসার আশা ও সেঁজুতি বনিক।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা আল-আকসার আশা জানান, রবিবার সকাল থেকে আমরা সিটি কর্পোরেশনের কিছু কিছু এলাকা থেকে অন্তত দুই ট্রাক প্রচারণার পোস্টার ব্যানার সরিয়েছি। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে অভিযানের সহযোগিতা করছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ।
আচরণবিধি লংঘন করে পোস্টার ব্যানার সাঁটানো এবং প্রচার-প্রচারণা চালানোর দায়ে প্রার্থীদের জরিমানা করার বিধান রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। তবে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন এখনো নিজ উদ্যোগে পোস্টার ব্যানার অপসারণের দায়িত্ব পালন করলেও নির্ধারিত সময় পর অবৈধভাবে পোস্টার ব্যানার সাজানো কিংবা প্রচারণার দায়ে প্রার্থী অথবা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা আল-আকসার আশা আরো জানান, অবৈধ পোস্টার ব্যানারের জন্য প্রার্থীদেরকে বা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করার নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। আমরা এখন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্বাচনী এলাকা থেকে অবৈধ পোস্টার ব্যানার সরিয়ে ফেলার কাজ করছি।




































