
স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যা থেকে বোরো ফসল রক্ষায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ফসল রক্ষা বাঁধের মেরামত ও সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় বালিজুরি ইউনিয়নের আঙ্গারওলি হাওরে সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজের উদ্বোধন করা হয়।ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মাহবুবুর রহমান।উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কাবিটা কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান মানিক। সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর-পূর্বাঞ্চল) মো.কাউছার আলম, তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী,হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি মুরসালিন মিয়া,উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক রোকন উদ্দিন,কাবিটা কমিটির সদস্য সচিব ও উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।সভায় বক্তব্যে ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক বলেন,হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা বোরো ধানের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। সময়মতো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না গেলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। সরকার কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ তারই বাস্তব প্রতিফলন।তিনি আরও বলেন, বাঁধ নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কমিটিকে কাজের মান নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা সারা বছর একটি মাত্র বোরো ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সেই সোনালী ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিবছরের মতো এবারও ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু করা হয়েছে।তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিবছর অনেক হাওর ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সব ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের সম্পৃক্ত করেই পিআইসি কমিটি গঠন করা হবে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।এদিকে স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রতিবছর আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তাঁদের ফসল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। সময়মতো এবং টেকসইভাবে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হলে বোরো ফসল রক্ষা পাবে এবং কৃষকেরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




































