
রাজশাহী মহানগরীর সিপাইপাড়া এলাকায় একমি (ACME) কোম্পানির একটি সাত তলা ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পরপরই ওই এলাকার অন্তত চারটি ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক ও বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ড. এবনে গোলাম সামাদের ‘নছিরন ভিলা’টি একদিকে হেলে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ড. সামাদের দোতলা বাড়িটির অন্তত অর্ধশতাধিক স্থানে বড় ফাটল ধরেছে। ভবনটির পশ্চিম দিকের দেয়াল প্রায় ১০ ইঞ্চি হেলে পড়েছে এবং সামনের ফুটপাত ধসে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির নিচতলার ভাড়ায় চালিত প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই বাড়িতে অধ্যাপক সামাদের স্ত্রী ও তিন সন্তান চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-এর নিয়ম অমান্য করে এবং কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী (Safety measures) ছাড়াই পাইলিংয়ের কাজ করছে একমি। পর্যাপ্ত জায়গা না ছেড়ে গভীর খনন করায় নছিরন ভিলা ছাড়াও পাশের আরও কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের নিচতলায় অবস্থিত ‘ওমেন্স ডল’ বিউটি পার্লারের ব্যবস্থাপক ফারজানা জানান, ভবনের আটটি কক্ষের দেয়াল ও মেঝেতে অন্তত ৪০টি ফাটল দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, “ডিসেম্বর আমাদের ব্যবসার মূল সময়। কিন্তু ভবনে ফাটল ও হেলে পড়ার কারণে গ্রাহকরা ভয়ে আসছেন না। আমাদের ১৫ জন নারী কর্মীর জীবন এখন ঝুঁকিতে। আমরা দ্রুত এর ক্ষতিপূরণ চাই।”
অধ্যাপক সামাদের ছোট ছেলে আল ফাত্তাহ সামাদ আক্ষেপ করে বলেন, “আমি মাস্টাররোলে মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করি। বিউটি পার্লার ও দোকান ভাড়ার আয়ে আমাদের সংসার চলে। এখন ভাড়াটিয়ারা চলে যাওয়ায় আমরা পথে বসার উপক্রম হয়েছি। শত বছরের পৈতৃক ভিটাটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় আমরা দিন কাটাচ্ছি।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন একমি কোম্পানির ডেপুটি ইনচার্জ রাসেল। তিনি দাবি করেন, “আমরা সব ধরণের নিরাপত্তা বিধি মেনেই কাজ করছি এবং প্রতিবেশীদের আগেই বিষয়টি জানানো হয়েছিল। উল্টো আমাদের কাজে বাধা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। যাবতীয় বিষয় এখন কোম্পানি দেখবে।”
এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, “নির্মাণকাজের জন্য মাটি কাটায় যে গর্ত তৈরি হয়েছে, তা অবিলম্বে বালু দিয়ে ভরাট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একমি ফার্মাসিউটিক্যালসকে দ্রুত চিঠি দেওয়া হবে। যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়ে তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারবে না। পাশের ভবনগুলোর ক্ষতির দায়ভার অবশ্যই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে।”
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে তারা আগামীকাল আরডিএ-তে লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন।





























