
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিবেদক || বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার হুড়কা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা পার্থ প্রতিম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির বিপুল পরিমাণ জমি জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী মুরারি মোহন দেবনাথ।ভুক্তভোগী মুরারি মোহন দেবনাথ জানান, তিনি রামপাল উপজেলার হড়কা মৌজায় মোট ৮টি খতিয়ান থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৬০ একর জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। এর মধ্যে আনুমানিক আড়াই বিঘা জমি তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করছেন। বাকি জমি প্রায় ১৫ বছর ধরে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা পার্থ প্রতিম বিশ্বাস জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।মুরারি মোহনের দাবি, পার্থ প্রতিম বিশ্বাস কোনো ধরনের লিজ বা ভাড়ার অর্থও পরিশোধ করেননি। বরং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমিতে অবৈধভাবে মিনি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন, ফলে জমির শ্রেণী পরিবর্তনসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।এ বিষয়ে তিনি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে লিখিত আবেদন করেন। প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে জমি উদ্ধার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।জানা গেছে, অভিযোগের প্রথম শুনানিতে অভিযুক্ত পার্থ প্রতিম বিশ্বাস উপস্থিত হয়ে এক সপ্তাহ সময় নিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে তিনি জমির দখল ছাড়বেন না বলে জানান এবং সেখানে কেউ গেলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দাপট দেখিয়ে আসা পার্থ প্রতিম বিশ্বাস বর্তমানে একটি ইসলামপন্থী দলের হিন্দু শাখার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত পার্থ প্রতিম বিশ্বাস বলেন, “মুরারি মোহন দেবনাথ কিছু জমি পাবেন, তবে তিনি যতটুকু দাবি করছেন ততটা নয়।” তবে কেন এখনো জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি।এদিকে দীর্ঘদিনেও জমি ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগী মুরারি মোহন দেবনাথ প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





























