
জাহিদ হাসান মুক্তার, পাকুন্দিয়া সংবাদদাতা: সুদানের মরুভূমিতে শান্তি রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামে রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে সামরিক মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকার সেনানিবাস থেকে হেলিকপ্টারে করে শহীদ জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ পৌঁছে পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের হেলিপ্যাডে। সেখানে অপেক্ষায় ছিল স্বজনদের কান্না, সহকর্মীদের সালাম আর গ্রামের মানুষের স্তব্ধ নীরবতা। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নেওয়া হয় তার নিজ বাড়িতে। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক সম্মানে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর নিয়াজ মাখদুম, পাকুন্দিয়া সেনা ক্যাম্পের ওয়ারেন্ট অফিসার আবির আহমেদসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ জানাজায় অংশ নেন। এর আগে সকালে ঢাকার সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ জাহাঙ্গীর আলমসহ নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ জাহাঙ্গীর আলম (৩০) ছিলেন তারাকান্দি গ্রামের আকন্দ বাড়ির হযরত আলীর ছেলে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেস ওয়েটার পদে কর্মরত জাহাঙ্গীর প্রায় ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তিনি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের জন্য সুদানে যান। আইএসপিআর জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী শহীদ হন। ওই হামলায় আরও ৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আটজন কেনিয়ার নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (লেভেল-৩) চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তারা সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। পারিবারিক সূত্র জানায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন মেজো। বড় ভাই মো. মোস্তফা প্রবাসে কর্মরত এবং ছোট ভাই শাহিন মিয়া কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের স্বপ্ন, গ্রামের গর্ব ও দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন দিয়ে গেলেন জাহাঙ্গীর আলম—যার আত্মত্যাগ স্মরণ করবে বাংলাদেশ।





























