
বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের আড়াই দশক পার হলেও রাজশাহী জেলায় এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাজনক। বিশেষ করে আইনটির বাস্তবায়ন মনিটরিং বা তদারকির ক্ষেত্রে স্কোর শূন্য শতাংশ। একই সঙ্গে তামাকজাত পণ্যের কর বৃদ্ধির বিষয়েও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
শনিবার সকালে নগরীর ঘোড়ামারায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস)’ আয়োজিত এক সভায় জেলা পর্যায়ের এই বাস্তবায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সহযোগিতায় ২০টি জেলার ওপর ভিত্তি করে ‘জেলা ভিত্তিক রিপোর্ট কার্ড’ শীর্ষক এই জরিপ চালানো হয়।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজশাহী জেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন টাস্কফোর্স কমিটির কার্যক্রমে ব্যাপক স্থবিরতা রয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আইন বাস্তবায়নের অবস্থা মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে জেলাটি শূন্য শতাংশ (০%) নম্বর পেয়েছে। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় জেলার গড় অর্জন মাত্র ৪৭ শতাংশ, যাকে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তামাকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করার ক্ষেত্রে রাজশাহী জেলা ১০০ শতাংশ সাফল্য দেখিয়েছে। এছাড়া তামাকের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে অর্জিত হয়েছে ৮৩ শতাংশ। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো, পরোক্ষ ধূমপান থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষার হার মাত্র ১৭ শতাংশ।
লফসের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক মহিলা কমিশনার শাহানাজ পারভীন লাকীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কেবল আইন থাকলেই হবে না, সেটির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো তথ্য দিয়ে সহায়তা করলেও মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।
সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড সচিব জিয়াউল আবেদিন, পিনাকল স্টাডি হোমের প্রধান শিক্ষক মো. সেকেন্দার হোসেন, রাজশাহী বিবি হিন্দু একাডেমির প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র নাথ সরকার ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ড. আইনাল হকসহ শিক্ষক, আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একনজরে রাজশাহীর রিপোর্ট কার্ড:
- আইন তদারকি: ০%
- পরোক্ষ ধূমপান থেকে সুরক্ষা: ১৭%
- সতর্কীকরণ প্রচার: ১০০%
- বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধকরণ: ৮৩%
- তামাক কর বৃদ্ধি: ৩৩%





























