
আগামী ১৫ মার্চ সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলায়ও জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে জানানো হয়, জেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ৪২,২৯৪ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ২,৯৮,২১২ জন শিশুকে যথাক্রমে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
জাতীয়ভাবে অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান জানান, ১,০৫৬টি স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন করে স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। ক্যাম্পেইন সফল করতে ব্যাপক প্রচারণার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারণা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। জেলা তথ্য বিভাগের সহায়তায় টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদের ইমামদের অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে জুমার খুতবার আগে মুসল্লিদের ক্যাম্পেইন সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সিভিল সার্জন জানান, ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তেমন কোনো ঝুঁকি নেই।
সিভিল সার্জন ক্যাম্পেইনের সফল বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পূর্বের মতো এবারের ক্যাম্পেইনও সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন মেডিকেল অফিসার একেমএম মেহেদি হাসান। জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. লুৎফর রহমানের উপস্থাপনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডা. মোরশেদুল ইসলাম খান, ডা. নাসিরুল হক, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টোর কিপার মো. ইব্রাহীম খান, সহকারী স্টোর কিপার মো. শওকত জামান এবং পরিসংখ্যানবিদ মো. সাইফুল সালমান।





























