
শেরপুর প্রতিনিধি :
জানুয়ারী ২৪ থেকে আগষ্ট ২৪ পর্যন্ত এই আট মাসে সাংবাদিকদের সংগঠন শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্য নির্বাহী কমিটি হয়েছে ৩ টি। আওয়ামীলীগ সংসদ সদস্যদের সরাসরি হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন ধরে শেরপুর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন এবং পরিচালিত হয়ে আসছিলো।আওয়ামীলীগের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করায় শেরপুরের মূলধারার সাংবাদিকরা পড়েছিলো চরম বিপাকে। স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার পতনের পর আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিলো আরেকটি গ্রুপ।
জানা যায়, শেরপুর প্রেসক্লাব গঠিত হয় ১৯৮০ সালে।এরপর স্বাভাবিক পথ চলায় বিপত্তি আসে ২০০৯ সালে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রথমে সাবেক এমপি আতিউর রহমান আতিক তার আস্থাভাজনদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন।পরবর্তীতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আতিউর রহমান আতিক কে পরাজিত করে এমপি হন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানুয়ার হোসেন ছানু। এবার ছানু আগের সব কমিটি বাদ দিয়ে তিনিও তার পছন্দের লোকদের দিয়ে গঠণ করেন নতুন কমিটি।
সর্বশেষ ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে সাংবাদিক কাকন রেজা কে সভাপতি ও মাসুদ হাসান কে সাধারণ সম্পাদক করে ২২ আগষ্ট সন্ধায় কয়েকজন সাংবাদিক মিলে প্রেসক্লাবের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে একটি ২২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ঘোষণা দেয়। কিন্তু এ কমিটি গঠনের পর শেরপুর জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। উঠে সমালোচনার এবং নিন্দার ঝড়।পূর্বের কমিটি থেকে জানা যায় আওয়ামীলীগের আমলে সাবেক এমপি আতিক, ছানু ঘোষিত কমিটির সদস্যরাই এখন ভোল পাল্টিয়ে নিজেদের বিএনপির কমিটি বলার চেষ্টা করছেন।তবে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এ অবৈধ কমিটি সম্পর্কে অবগত নয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন।
এবিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বলেন, দুষ্কৃতকারী কিছু সাংবাদিক বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে আমাদের মিস গাইড করে প্রেসক্লাবের কমিটি করেছে। এই কমিটি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। সাংবাদিকদের কমিটি সাংবাদিকরাই করবে এটা আমরা কেন করতে যাবো।
জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, আমরা এই উদ্ভুত পরিস্থিতি এবং আইনশৃংখলা রক্ষার্থে নিয়মের বাইরে গিয়েও দলীয় পেডে আমরা সভাপতি সাধারন সম্পাদক স্বাক্ষর করে সাংবাদিকদের অবগত করি যে, প্রেসক্লাবের এই কমিটি সম্পর্কে অবগত নই।
এদিকে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জ্বল বলেন, সাংবাদিকদের একটি চক্র বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে রাতের আঁধারে প্রেসক্লাবের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে ২২ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষনা দেয়। বিএনপি নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান আমরা এই কমিটির ব্যাপারে অবগত নই এবং তারা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে যা তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।





























