
বাংলাদেশে প্রায়ই বলা হয়-দেশটা যদি জাপানের মতো হতো। শৃঙ্খলা, আইন মেনে চলা আর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে জাপানের নাম আসে। কিন্তু জাপানের বিচারব্যবস্থা বাস্তবে কীভাবে কাজ করে, শিনজো আবে হত্যাকাণ্ডের বিচার সেই প্রশ্নের একটি বাস্তব উদাহরণ।সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে নারা জেলা আদালত তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাড়ে তিন বছর পর ২১ জানুয়ারি এই রায় ঘোষণা করা হয়। অথচ ২০২২ সালের জুলাইয়ে নারা শহরে নির্বাচনী ভাষণের সময় হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে গুলি করার পর ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।এত সময় লাগার প্রধান কারণ ছিল বিচারপ্রক্রিয়ার ধরন। জাপানে দ্রুত রায়ের চেয়ে প্রক্রিয়াগত নির্ভুলতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইয়ামাগামির মানসিক অবস্থা অপরাধের সময় কেমন ছিল, তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রাখতেন কি না তা যাচাই করতে দীর্ঘ সময়ের মনোরোগ পরীক্ষা করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। আদালতে ইয়ামাগামি বলেন, ইউনিফিকেশন চার্চে তার মায়ের বড় অঙ্কের অনুদানের কারণে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। তার এই বক্তব্যের সত্যতা, পটভূমি এবং রাজনৈতিক প্রভাব যাচাই করতেও সময় লাগে। কারণ মামলাটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়।রাষ্ট্রপক্ষ এই ঘটনাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানায়। রায় ঘোষণার সময় বিচারক শিনইচি তানাকা বলেন, জনসমাবেশে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নৃশংস অপরাধ।সব প্রমাণ, প্রতিবেদন, ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষ্য-ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করা হয়, যাতে রায় নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। এ কারণেই বিচার শেষ হতে সময় লেগেছে।রায়ের পর আসামিপক্ষ জানিয়েছে, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।শিনজো আবের মামলার বিচার দেখায়, জাপানের বিচারব্যবস্থা ধীর মনে হলেও তা পরিকল্পিত, প্রমাণনির্ভর এবং রাজনৈতিক চাপমুক্তভাবে পরিচালিত হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের দেশের প্রশাসন তো জাপানের মতো শক্তিশালী নয়।চব্বিশের পরে সবার আশা ছিল এবাফ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।আইনের শাসনের পথে রাষ্ট্রকে নিয়ে যেতে জনগণ হিসেবে আমাদের ও দায়িত্ব ছিল আমরা সেসব কতটুকু পালন করেছি।উল্টো আইন- আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রীতিমতো সময় বেঁধে দিতে দেখা গেছে,অনেক ক্ষেত্রে বলে দেওয়া হয় কি সাজা দিতে হবে অথচ আসামি গ্রেফতার ই হয়নি।অবশ্য এই চিত্র হুট করে হয়েছে সেটা বলা যাবে না বরং বিগত ফ্যাসিবাদী শক্তি তাদের শোষণের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে এই অবিশ্বাসের বীজ বুনে দিয়ে গেছে।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন এবং জনগণ উভয় পক্ষই যদি দায়িত্বশীল আচরণ না দেখায় তবে এই অবিশ্বাসের বীজ থেকে চারা গজিয়ে ক্রমশ তা দানবীয় রূপ ধারণ করবে





























