
মোঃ নিয়াজ মাখদুম, চবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার আজ প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার ভাবনা ও পরিকল্পনা জনাতে গিয়ে সংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন।
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন চবির নবনিযুক্ত উপাচার্য। এ সভায় একাডেমিক ক্লাস শুরু, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি, হলের আসন বরাদ্দ, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেকে ডিজিটালাইজেশন করা সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
এসময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'নাটক আগে হয়ে যায় পরে রিহার্সাল।' প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগেও তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হয় কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শুধু নামমাত্র ভাইভা দিয়ে শিক্ষক হয়ে যাচ্ছে। ৩০ জন ক্যান্ডিডেটের ভাইভা একঘণ্টায় কিভাবে শেষ হয় আমার জানা নেই।
এসময় উপাচার্য বলেন, আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি থাকুক। তবে সেটা হতে হবে একাডেমিক স্বার্থ কেন্দ্রিক, কোন লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির নয়। আমি কখনো দেখিনাই এখানে শিক্ষার্থীরা 'নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজাল্ট চাই' বলে স্লোগান দিয়েছে। শিক্ষকরা ক্লাস নেন না তারজন্য প্রতিবাদ করে "প্রশাসন জবাব চাই" স্লোগান দিতে দেখিনি, দেখিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি তুলে কখনো আন্দোলন করতে।
গত (১৯-এ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তম উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন চবির রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। এরপর রবিবার (২২-এ সেপ্টেম্বর) প্রথম কার্যদিবসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, নয়টি অনুষদের ডিন ও ১৪ টি আবাসিক হলের প্রভোস্ট নিয়োগ দেন তিনি।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, আমার প্রথম কাজ হল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানো। এর আগে তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, সে কারণে দ্রুত হলের আসন বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে দূরত্ব, মেধাও শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা কিভাবে হলের আসন বরাদ্দের জন্য অনলাইনে আবেদন করবে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইন নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে আজ তিনজন বিশেষজ্ঞের সাথে বৈঠক করব, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ শুরু করব।
নবনিযুক্ত উপাচার্য আরও বলেন, 'হলের মধ্যে মাস্তানি, দখলদারি, চাঁদাবাজি, ক্যানটিন ও ডাইনিং থেকে ফাও(ফ্রিতে) খাওয়া জাদুঘরে যাবে। আপনারা আমাকে একমাস সময় দেন এর মধ্যে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো খাবার নিশ্চিত করতে হবে, আমি নিজে গিয়ে বিভিন্ন হলের খাবার খেয়ে পরীক্ষা করব।'
তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমি চাই না আমার কোনো শিক্ষার্থী মাদক গ্রহণ করুক, আমি খুব কষ্ট পাই এ ব্যাপারে। আমরা ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত করব। রাতারাতি এ সমস্যার সমাধান হবে না, তবে কখন কোথায় অভিযান চালাতে হবে আমি ভালো করে জানি। মাদকের কারণে দুই- চারজন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু হবে না। এবিষয়ে আমরা কঠোর থাকব।
নব নিযুক্ত উপাচার্য ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ সম্পর্কে বলেন, আমি এ প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করি। যেখানে প্রাইমারির শিক্ষক হতে গেলেও কত ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, আর সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এতো শিথিলতা। বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমার চিন্তা-ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা এর জন্য যা করার তা আমি করব। অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা যে সরকারই হোক না কেন আমি আমার ভাবনা থেকে সরবো না। এতে আমার ভিসি পদ গেলে যাবে। আমি কোন কাজ করতে ভয় পাই না কারণ সততার একটি শক্তি আছে। আমি যদি সৎ থাকি আমার যদি কোন অসৎ উদ্দেশ্য না থাকে তহলে আমার ভয় কিসের? এবিষয়ে আমি আপনাদের সহযোগীতা চাই, আপনারা আমার কোনো ভুল পেলে প্রথম পাতায় লাল অক্ষরে বড় করে ছাপাবেন যাতে আমি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি।





























