
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর জন্য এক ব্যবসায়ীর ওপর চাপ সৃষ্টি, গালিগালাজ ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ফজলুর রহমান নামের (৫০)এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে দেশে সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফজলুর রহমান (৫০) নামের ওই ব্যক্তি স্থানীয় এক দোকানদারকে বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির জন্য চাপ দেন। তিনি ৮৫২ টাকা গায়ের মূল্যের তেল ৯০০ টাকায় ব্যবসায়ী দোকানদারের কাছে বিক্রি করতে চান এবং দোকানদারকে বলেন, এই তেল ৯৪৫ টাকায় বিক্রি করতে হবে। তবে দোকানদার এ অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে ফজলুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ব্যবসায়ী তেলের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে ফজলুর রহমান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং হুমকি দেন। একপর্যায়ে, তিনি দোকানদারের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।জানা যায় ফজলুর রহমান কোন ব্যবসায়ী নন।তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং মুলাডলী খাদ্য অফিসে চাকরি করেন বলেও জানা যায়। তবে তিনি কোথায় থেকে এ তেল পেলেন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা এবং তিনি তেল সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত এমন ধারণাও করছেন কেউ কেউ।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের অসাধু ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, "এভাবে যদি কেউ জোর করে আমাদের বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করে, তাহলে বাজার ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।"
স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ধরনের ঘটনা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এজন্য ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





























