
মোঃ মাহিন খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেছেন, কারাবন্দি অবস্থায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর অমানবিক নির্যাতন, নিঃসঙ্গতা ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নানা ষড়যন্ত্র চালানো হলেও তিনি কখনো পিছু হটেননি; বরং দেশের গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দীর্ঘ ১৭ বছর অবিচল থেকেছেন।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজাপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন—
“আজ দেশনেত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সারাদেশ তাঁর জন্য দোয়া করছে। আমরাও এ আয়োজন করেছি তাঁর সুস্থতার আশায়। আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আবারও নেতৃত্ব দিন।”
তিনি আরও বলেন—
“এই দেশে এখনো খালেদা জিয়াকে দরকার, এখনো তারেক রহমানকে দরকার। দেশের মানুষ তাঁদের প্রতি আস্থাশীল; গণতন্ত্রের জন্য তাঁরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। এটিই প্রকৃত দেশপ্রেম। আমরা সেই প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়েই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। খালেদা জিয়া যেন সুস্থ থাকেন, দীর্ঘদিন বেঁচে দেশের নেতৃত্বের জন্য তারেক রহমানকে দিকনির্দেশনা দিয়ে যেতে পারেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
দোয়া মাহফিলে রফিকুল ইসলাম জামাল ইতিহাস প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন—
“১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন। তখনই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার পর পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে ধরতে না পেরে তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে গ্রেপ্তার করে চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা নেয়। খালেদা জিয়া ও তাঁর সন্তানদের গ্রেপ্তার করে জিয়াউর রহমানকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি জবাব দেন—‘আমরা যুদ্ধে নেমেছি, জিতেই ফিরব। আমার পরিবারকে আঘাত করলে পাকিস্তানের কোনো সেনাই দেশে ফিরে যেতে পারবে না।’”
তিনি বলেন, এক-এগারোর সময় একই ধরনের ষড়যন্ত্র পুনরাবৃত্তি হয়েছিল।
২০০৭ সালে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীন সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ ছাড়ার চাপ দেওয়া হয়—“দুই সন্তানকে নিয়ে বিদেশে চলে যান, তাহলেই আপনাদের জন্য ভালো হবে”—এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে সবকিছু উপেক্ষা করে দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন এবং দেশ ছাড়েননি।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন—
“১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জিয়া পরিবার নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। এই ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস আমাদের ওপর দায়িত্ব দেয়—গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করার। দেশের মানুষ চায় তারেক রহমান নিরাপদে দেশে ফিরে এসে জাতিকে নেতৃত্ব দিন।”
দোয়া মাহফিলে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




































