
আগামীকাল রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ক্লাস। এদিন সবাই উপস্থিত থাকতে পারলেও থাকতে পারবেন না আবু সাইদ। তার স্মৃতিতে কাঁদছে ক্যাম্পাস। ক্লাস শুরু হলেও অন্তর অশান্ত বেরোবি শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের এবং আবু সাইদের বন্ধু নুর আলম সিদ্দিক বলেন, কখনও মনে হয় না সে আমাদের মাঝে নেই। মনে হয় এই তো সন্ধ্যা হলো, ও ফোন দিবে। মনে হয় ওই তো সামনে ছোট্টো একটা সাদাকালো ডোড়াঁকাটা শার্ট, কালো প্যান্ট, চোখে স্বল্প পাওয়ারের চশমা এবং হাল্কা রঙের ব্যাগ নিয়ে সামনে হাঁটছে। ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছে। একটু পরেই ক্লাস শুরু। তার অবয়ব ভাসে আঁখি মনে। এগিয়ে যাই, আরও এগুই। আর একটু গেলেই তার দেখা পাবো। পাওয়া হয়ে ওঠে না। মরিচীকার সাগরে যেন ভাসছি। ডাক দিতে গিয়ে মনের ভিতর উচ্চারিত শব্দ দুটি আর উচ্চারিত হয় না। অনুচ্চারিত হয়ে থাকে মনের ভিতর। মন সেই ভার নিতে পারে না। অনুচ্চারিত শব্দের ভার উচ্চারিত শব্দের থেকে শতগুণ হালকা। কোনো স্মৃতি নিয়ে লিখবো!!! কত কথা!!! কত আলোচনা!!! কত বিষয়!!!
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সবুর বলেন, বন্ধু আবু সাইদ আজ নেই অথচ আমরা সবাই কাল রোববার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। সবাই ঘরে ফিরলেও বন্ধু ফিরেনি। অনেক স্মৃতি জড়িতে আছে। কোটা-আন্দোলনের সমুক্ষ যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা ও প্রাণপুরুষ আবু সাইদ ক্লাসে ফিরতে পারিনি।ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে লড়ে সে প্রমাণ করলো প্রকৃতপক্ষে সে মরেনি। আজ তার নাম হাজার কোটি মানুষের মনে তবে যে ক্লাসের বেঞ্চে সে বসতো সেই বেঞ্চ, সেই চিরচেনা পরিবেশ আজ নিস্তব্ধ। জানি ফিরবেনা তবুও অপেক্ষায়।
ইংরেজি বিভাগ ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াদ খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার পরে, যখন ক্লাস শুরু হওয়ার উপক্ষণে ;আবু সাঈদের কথা মনে পড়ে যাই। মনে পড়ে যাই এই ক্যাম্পাসে আবু সাঈদের আনাচে-কানাচে কত স্মৃতির কথা।তার সবগুলো স্মৃতি এখনো অম্নান হয়ে আছে। ক্লাস শুরু হচ্ছে কেমন জানি মনের একটি জায়গায় কিঞ্চিৎ পরিমাণ ব্যথা অনুভব করি। তখনই মনে পড়ে যায় যুদ্ধে তার বুক পেতে দাঁড়ানোর কথা, তার থেকে দেখে সাহস পেয়েছে হাজারো যুবক। যাদের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আজ সুন্দর একটি স্বাধীনতা।এই স্বাধীনতা আমরা কতটুকু রক্ষা করতে পারবো? আমাদের দেশ কতটুকু বৈষম্য মুক্ত হলো? দুর্নীতিমুক্ত হলো? তা বলে দিবে সামনের এই বাংলাদেশ। আমরা আবু সাইদের কাছ থেকে শিখেছি কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়, চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করতে হয় অন্যায়ের। আমি আবু সাঈদের ক্যাম্পাসের এবং তার জুনিয়র হিসেবে একটা প্রত্যাশা রাখি -আমরা এমন সোনার বাংলাদেশ গড়বো। যে দেশে থাকবে না কোন অন্যায়-ঘোষ চাঁদাবাজি বৈষম্য ইত্যাতি।আমরা আবু সাঈদের আদর্শকে ধারণ করবো।আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারত হয়ে জ্বলবো। আমরা এসব বিষয় মাথায় রেখে সোনার বাংলাদেশ গড়ব।
গত ১৬ জুলাই এ আবু সাঈদের মর্মান্তিক মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া বিস্তার করেছে। আবু সাঈদ ছিলেন একজন মেধাবী, একই সাথে সাহসী ও বীর। তার সাহসিকতা দৃষ্টান্ত সকলের মনে গেঁথে আছে ।
আজ ক্লাসে বসেও শিক্ষার্থীরা আবু সাঈদকে মনে করছে। তার খালি চেয়ারটি দেখে তাদের চোখে জল। তারা বলছে, ‘আবু সাঈদ ছাড়া ক্লাস আর আগের মতো হবে না। তার অভাবে ক্যাম্পাস মনে হচ্ছে অনেক নিস্তব্ধ।’
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। তারা আবু সাঈদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দিয়েছেন।আবু সাঈদের মৃত্যু আমাদের সকলকে মনে করিয়ে দেয় কিভাবে বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াতে হয় , শিখিয়ে দেয় দেশ প্রেমের গভীরতা। বেরোবি যতদিন থাকবে বাংলাদেশ যতদিন থাকবে আবু সাঈদের নাম থাকবে মানুষের অন্তরে এবং লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায় ।





























