
দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে মাজারে হামলা ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতায় তরিকুল সুজন বলেন, ‘বাংলাদেশকে মৌলবাদের জমিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মাজারগুলো ধ্বংস ও হামলা করা হচ্ছে। ভিন্ন মতের উপর, বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা করা হচ্ছে। দেশের মানুষ জানে কারা এই হামলা করছে, কাদের পুনর্বাসিত করার জন্য এই হামলা। বিভক্তির রাজনীতির সুবিধাভোগী কারা তা বোঝার জন্য সীমান্তে যেতে হয় না। যে কোন প্রান্ত থেকে দেশের মানুষ বুঝতে পারে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের মানুষের যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সে ঐক্যকে বিভক্ত করতে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শক্তি মরিয়া। গত কয়েকদিনে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে সংগঠিত হয়ে মাজারসহ আধ্যাত্মিক স্থাপনায় হামলা হচ্ছে। এর আগে আমরা দেখেছি মন্দিরে হামলা হতে। এসব কোনো ঘটনায় কাউকে বিচারের আওতায় আনতে বা মামলা করার খবরও পাওয়া যায়নি। মাজারে হামলার কোনো ঘটনায়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা সমাজের গভীরের ক্ষতকে বিস্তৃত করবে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভেতর বিভাজন আরও বাড়াবে। যা আগের মত অগণতান্ত্রিক শক্তির হাতে বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিকদের দশকের পর দশক ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ গুলি করে হত্যা করছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কিশোরী ফেলানী হত্যা থেকে শুরু করে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের ১ তারিখে স্বর্ণা দাস, ৯ তারিখে জয়ন্ত কুমার সিংহের হত্যা আমরা বিক্ষুব্ধ। আমরা ব্যথিত। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর হিসাব অনুয়ায়ী, ২০২৩ সালে ৩১ জন বাংলাদেশি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বা নির্যাতনে নিহত হয়েছেন৷ ২০২১ ও ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৮ ও ২৩ জন৷ আসকের হিসাবে এর আগে ২০০৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ১১ বছরে ৫২২ জন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে বা নির্যাতনে মারা গেছেন৷ এ বছরও ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে৷ আমরা সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যার বিচার চাই। এটা সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।’
গণসংহতি আন্দোলনের মহানগর কমিটির নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রানী সরকারের সঞ্চালনায় মহানগর কমিটির সমন্বয়কারী নিয়ামুর রশীদ বিপ্লব বক্তৃতায় বলেন, ‘যারা মসজিদ দখল করছেন, মাজার ভাঙ্গছেন তারা আদতে পতিত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতি পুনর্বাসন করছেন।
তিনি আরোও বলেন, ‘এই বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না। যারা বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা করবেন তাদের পরিণতি পতিত স্বৈরাচারের মতোই হবে।’
বিক্ষোভে অঞ্জন দাস বলেন, ‘মাজারসহ সমস্ত ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা বিগত ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পুনর্বাসনের হাতিয়ার। দেশবাসীকে এই ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই হামলা বন্ধে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। সীমান্তে আর একটাও গুলি নয়। সকল সীমান্ত হত্যার বিচার চাই।’
বিক্ষোভে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল বাপ্পি, মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাকবীর হোসেন, ১৮নং ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক শুক্কুর মাহমুদ জুয়েল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।





























