
শেরপুর প্রতিনিধি : ২ ডিসেম্বর ২০২৫
শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ধানুরপাড়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে নারীসহ একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা এক নারীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে নেওয়া এবং পরদিন তার স্বামীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা লুট করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় মোছাঃ ভানু বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারী শেরপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ধানুরপাড়া গ্রামের মোঃ আমির উদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ ভানু বেগমের (৪৮) পরিবারের সাথে একই এলাকার মোঃ আ. সামাদ, মোঃ সুলতান হোসেন শুকতার, মোঃ শিমুল মিয়া, মোঃ পারভেজ মিয়া, মোঃ হাবুলশি উদ্দিন, মোঃ রমজান আলী, মোঃ ময়নুল মিয়া, মোছাঃ পারভীন বেগম, মোছাঃ আউলিয়া বেগমসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।
বাদীর অভিযোগ, গত ২৫ নভেম্বর দুপুর ২টার দিকে আসামিরা দা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাদের বাড়ির পেছনে জড়ো হয়ে গালিগালাজ শুরু করে। ওই সময় প্রতিবাদ জানালে ১ নম্বর আসামি বাদীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করতে গেলে তা হাতে ঠেকাতে গিয়ে তার বাম হাত ভেঙে যায়।
চিৎকার শুনে বাদীর ছেলে মোঃ সুজন মিয়া, স্বামী মোঃ আমির উদ্দিন, আত্মীয় মোঃ আরিফ উদ্দিন ও কন্যা মোছাঃ আলিয়া খাতুন এগিয়ে এলে আসামিরা তাদেরও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। এ সময় আলিয়ার গলার প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ৮ আনি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে নেয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, আহতদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রতিপক্ষরা বাধা দিলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। যা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরদিন ২৬ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে বাদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে আসামিরা তার স্বামী মোঃ আমির উদ্দিনকে বাড়িতে একা পেয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং তার কাছে থাকা এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা আহত আমির উদ্দিনকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদীর বড় ছেলে মোঃ বাবলু বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে তারা নিয়মিত আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল। নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমরা ১০৭/১১৭ ধারায় একটি মামলা করি। ওই মামলার হাজিরার সময় ঘনিয়ে আসলে তারা আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। বর্তমানে আমরা বাড়িতেও নিরাপদ নই। পুলিশ দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করুক।”
বাদী ভানু বেগম জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকায় অভিযোগ করতে দেরি হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
অভিযুক্ত আঃ সামাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সেদিন কোর্টে ছিলাম। বাড়িতে মহিলাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে।”
এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুবায়দুল আলম বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





























