
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরে চা বিক্রি করে সংসার চালানো এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মানবিক উদ্যোগে নতুন করে হাসি ফুটেছে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালকের পরিবারে।
উপজেলা সদরের গোমতী মার্কেটের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন চা বিক্রির আয়ে চলে যার সংসার, সেই মানুষটিই অন্যের কষ্ট দেখলে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেন। তার ভাষ্য, “মানুষকে সহযোগিতা করতে পারলেই আত্মতৃপ্তি পাই।”
কয়েকদিন আগে চা বিক্রির সময় তার চোখে পড়ে একটি জরাজীর্ণ অটোরিকশা। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামের ৭২ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক এরশাদ মিয়ার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম সেটিই। রিকশার বেহাল অবস্থার কারণে ঠিকমতো ভাড়া পান না তিনি। অথচ তার উপার্জনেই চলে পুরো পরিবারের ভরণপোষণ।
এরশাদ মিয়ার দুই ছেলে থাকলেও কেউই উপার্জনে সক্ষম নয়। বড় ছেলে ১৪ বছর বয়সী আরাফাতুল ইসলাম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে। ছোট ছেলে রিফাতুল ইসলামের বয়স মাত্র ১১ বছর।
বৃদ্ধ চালকের দুরবস্থা দেখে বসে থাকেননি আলমগীর হোসেন। দুই সহযোগীর সহায়তায় নিজের চা বিক্রির প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ করে অটোরিকশাটি মেরামত করে নতুন রূপ দেন তিনি। ফলে এখন আগের তুলনায় ভালো ভাড়া পাচ্ছেন এরশাদ মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, আলমগীর হোসেন এর আগেও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের মাধ্যমে নিজের কষ্টার্জিত উপার্জনের একটি বড় অংশ অসহায় মানুষের জন্য ব্যয় করেছেন।
সমাজের এমন মানবিক মানুষদের উদ্যোগই প্রমাণ করে সহানুভূতি আর সদিচ্ছা থাকলে স্বল্প আয়ের মানুষও হতে পারেন বড় মনের।





























