
আনোয়ারা প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন বলেছেন, চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির পক্ষে আলো জ্বালাতে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে সংসদে যেতে চায় ইসলামী ফ্রন্ট ও বৃহত্তর সুন্নী জোট। মোমবাতি প্রতীক সকল সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তির প্রতীক। তাই মোমবাতিকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা এস এম শাহজাহানের মোমবাতি প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা এম এ মতিন বলেন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে সুন্নী জোট থেকে যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তিনি বংশীয় ঘরের সন্তান ও একজন আলেম। তার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক রেকর্ড নেই। তাকে সংসদে পাঠালে আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের ব্যাপক উন্নয়ন হবে এবং এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন দলীয় সরকারে পরিণত হয়েছে। একটি দলকে নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি—জাল ভোট দিতে জাল ব্যালট পেপার ও সিল তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি পুরুষদের নারী সাজিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সুন্নী জোট প্রার্থী মাওলানা এস এম শাহজাহান।তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে বহু নির্বাচন হয়েছে, এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন অনেকে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মানুষ আজও অবহেলিত। এই অবহেলার মূল কারণ দুর্নীতি। আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, তাহলে দুর্নীতিমুক্ত আনোয়ারা-কর্ণফুলী গড়ে তুলব। সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, টেকনিক্যাল কলেজ ও উন্নত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করব। বেকারত্ব দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করব। এজন্য তিনি সবার কাছে মোমবাতি প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক মাওলানা মুহাম্মদ মুসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা হারুনুর রশীদ ক্বাদেরী, স. ম. হামেদ হোসাইন, অ্যাডভোকেট আবু নাছের তালুকদার, আবদুন নবী আল-কাদেরী, মাস্টার আবুল হোসেন, নাছির উদ্দীন মাহমুদ, মুহাম্মদ মনছুর আলম চৌধুরী, কাজী শাকের আহমেদ চৌধুরী, গোলাম মুস্তাফা, নাজিম উদ্দিন, মঞ্জুরুর আলম মঞ্জু, হাফেজ মুহাম্মদ নাছির, মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, মহব্বত আলী জিহাদী, সৈয়দ মুহাম্মদ শওকত আজিজ, যুবনেতা হাবিবুল মুস্তফা সিদ্দিকী, মাওলানা আবু তাহের ফয়জী, যুবনেতা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও ছাত্রনেতা মুহাম্মদ শফিউল করিমসহ অনেকে।
এর আগে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারট্যাক এলাকা থেকে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রায় তিন কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফকিরনীর হাট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শুরুর আগে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।





























