
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় নিহত মাহবুব জিয়া (৪০)। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ভাই নাছির উদ্দিন, স্ত্রী তানিয়া, বাদল মিয়াসহ স্বজন ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে বাড়ি নির্মাণের সময় পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ঘটনাটি উপেক্ষা করায় ২৩ নভেম্বর বিকেল ৫টার দিকে মুনিয়ারিকান্দা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় বিদ্যালয় মাঠে ইলিয়াস মিয়া, ফরহাদ মিয়া, সামাদ, তানভির ও সুরমা আক্তারের নেতৃত্বে একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রামদা, চাপাতি, লোহার রড, ইট ও লাঠি দিয়ে ধারালো ও ভোঁতা অস্ত্রে অতর্কিত হামলায় মাহবুব জিয়া, রফিক ও সায়িম গুরুতর জখম হন। প্রথমে পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার সিটিকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সেখানে মারা যান মাহবুব জিয়া। আহতদের একজন এখনো ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলা ঠেকাতে গেলে হুমাইরা ও তানিয়াসহ আরও কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। হামলার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে যায় বলে দাবি তাদের।
নাছির উদ্দিন এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোবারক হোসেন জানান,“এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
সংবাদ সম্মেলনে পরিবার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুরো পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানায়।





























