
পি. কে রায়, বিশেষ প্রতিনিধিঃ চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী বাজার থেকে ৭টি ভ্যানে ৮৩বস্তা সার আঁটক করেছে স্থানীয় কৃষকেরা।
ঘটনাটি গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী ) রাত আনুমানিক ৮ ঘটিকার সময় উপজেলার আমতলী বাজারে ৭টি ভ্যানে ৮৩বস্তা রাসায়নিক সার আঁটক করা হয়।
এসময় কৃষকেরা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী অবরোধ করে রাখেন। এতে দিনাজপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়কের দুই ধারে শতশত যানবাহন আঁটকা পড়ে। পরে স্থানীয় প্রশাসন সার গুলো জব্দ ও দুইজন অসাধু সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করলে রাত প্রায় ১১ঘটিকায় কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেয়।
স্থানীয় কৃষকেরা জনায়, ১০নং পুনট্রি ইউনিয়নের ডিলারের কাছে ধর্ণা দিয়েও সার পাওয়া যায়না। এদিকে ডিলার গোপনে সার গুলো বেশী দামে বিক্রি করে আসছিলেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী বাজারে ৭টি ভ্যানে এক যোগে দিনাজপুর সদর উপজেলার অভিমুখে সার নিয়ে যেতে দেখলে কৃষকদের সন্দেহ হয়। এ সময় উপস্থিত কৃষকদের সন্দেহ হলে তারা ভ্যান গুলো আটক করে সার কোথায় থেকে নিয়ে আসল এবং কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জানতে চায়। এ সময় ভ্যানের চালক এবং ভ্যানে থাকা সারের ক্রেতারা জানায় তারা দিনাজপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। সারগুলো সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সার বিক্রির নীতিমালা অনুযায়ী এক উপজেলার সার আরেক উপজেলায় নিয়ে যাওয়া এবং বিক্রি করা বেআইনি। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এক পর্যায় শতশত কৃষক এসে জোড় হয়। রাত প্রায় ১০ ঘটিকায় তারা দিনাজপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করে দেন।
খবর পেয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেহা তুজ জোহরা, কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা এবং চিরিরবন্দর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুন নবী ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে আঁটক ভ্যানের চালক ও সার ক্রেতাদের তথ্যের ভিক্তিতে সারগুলো জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অবৈধ সার ব্যবসায়ী মাহামুদুলকে ৫০ হাজার টাকা এবং আরেক সার বিক্রেতা জাহাঙ্গীরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে সারগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শাহিন আলমের হেফাজতে ইউনিয়ন পরিষদের রাখা হয়। পরে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নিলে রাত ১২ঘটিকার দিকে যানাবাহন চলাচল শুরু হয়।
জব্দকৃত সারের মধ্যে রয়েছে, ডিএপি-২১ বস্তা, ইউরিয়া ১৯ বস্তা, টিএসপি ৬ বস্তা, পটাশ ২৯ বস্তা ও জিপ ৮ বস্তা। মোট ৮৩ বস্তা।
বুধবার (২৫ফেব্রুয়ারী) সারগুলো ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি মুল্যে বিক্রি করে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করে বলেন বিসিআইসি ডিলার আব্দুর রহিম গোপনে দীর্ঘদিন থেকেই চড়া মূল্যে সার বিক্রি করেন। আর স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের বলেন সার নাই। সারের বরাদ্দ কম"।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- "আটককৃত ৮৩বস্তুা সারগুলো স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি মুল্যে বিক্রি করে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।





























