
বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
চৌমুহনী শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত একাধিক খাল পুনঃখনন করা কালে খালের ময়লা আবর্জনা খালের মধ্যে একপাশে রাখা এবং খালের ওপর নির্মিত বহুতল ভবন না ভাঙ্গার ফলে খালের পূর্বাবস্থায় রয়ে গেছে। তাছাড়া ৮০ ফুট খাল খনন করার কথা থাকলেও অনেকস্থানে দখলদারদেরকে পুরোপুরি সরানো যায়নি এবং যে কয়েক ফুট সরানো হয়েছে, নিচের পাকা ভিত পাকায় রয়ে গেছে। বর্তমানে খালে জঞ্জাল ও আবর্জনাপূর্ণ।
জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালী জেলাকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্ত করার জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করেছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডর ওপর। নোয়াখালী জেলার ২৩টি খাল পুনঃখননের মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলায় ৬ টি খাল। তম্মধ্যে চৌমুহনী শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত আটিয়াবাড়ি- ছাতারপাইয়া খালের ১৩ কিলোমিটার ও তুলাতলি খালের ৩ কিলোমিটার পুনঃখনন করার কথা। আটিয়াবাড়ি নামক স্থানে নোয়াখালী খালের সাথে সংযোগ হয়ে শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উত্তরে ছাতারপাইয়া পর্যন্ত এবং শহরের বড়পোলের নিকট ছাতারপাইয়া খালের সাথে সংযোগ হয়ে পূর্বদিকে তুলাতলি খাল। এ দুইটি খালের চৌমুহনী শহরাংশের দক্ষিন বাজার, মাইজ বাজার, কালীতলা রোড, কলেজ রোড, ফেনী রোডসহ অনেকস্থানে অবৈধভাবে ভরাট করে খাল দুইটিকে নালায় পরিনত করা ছাড়াও ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ ছিল। তার ওপর ঘাষ ও জঙ্গল। দেখতে মনে হয় ঘাষের ক্ষেত। খালের দখল অংশ পরিমাপ করে চিহ্নিত করার দায়িত্ব ছিল ভূমি দপ্তরের এবং বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ছিল পানি উন্নয়ন দপ্তরের। দখলের সীমানা চিহ্নিত করে দখলদারদেরকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সময়সীমা বেধে দিলে মাত্র কয়েক ফুট ছেড়ে দেয়। কিন্তু ওপরের ঘর সরালেও খালের মধ্যে থাকা নিচের পাকা ভিত সরায়নি। পরে জানুয়ারী/২০ এ খাল পুনঃখনরের সময় খালের ময়লা আবর্জনা উঠিয়ে ভিতের ওপরেই রাখা হয়। কোথায়ও কোথায়ও ময়লা আবর্জনা খালের মধ্যেই রাখা হয়। এতে করে বর্ষাকালে ময়লা আবর্জনা পুনরায় খালের মধ্যে চলে আসায় খাল পূর্বাবস্থায় চলে আসে। বর্তমানে ছাতারপাইয়া খাল ও তুলাতলি খাল দুইটির চৌমুহনী শহরাংশে ময়লা আবর্জনা জঞ্জাল, ঘাষে পরিপূর্ণ। বিশেষ করে চৌমুহনী শহরের বড় পোলের সাথেই ছাতারপাইয়া খাল ও তুলাতলি খালের সংযোগ স্থলে খালের ভিতরেই নির্মিত বহুতল ভবনটি প্রথমে ভাঙ্গার উদ্যোগ নেয় এবং কিছু অংশও ভেঙ্গেছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে পরে ভাঙ্গা অংশ আবার নির্মান করে। দখলকৃত অংশ থেকে কয়েকফুট ঘর সরালেও পাকা ভিত থেকেই যায়। দখলকারীরা সুযোগ বুঝে আবার পুনঃরায় পাকা ঘর নির্মান করে ফেলে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ মোস্তফা, আমির হোসেন অভিন্ন ভাষায় জানান, খাল আগের মতই রয়ে গেছে। আবর্জনা, জঞ্জালে পরিপূর্ণ। দখলদারদের শক্তি বেশী না প্রশাসনের শক্তি বেশী তা বুঝা যাচ্ছে না। দখলদাররা সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছিল। এখন তা সরকার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে দখল করে ফেলেছে।
চৌমুহনী সাধারন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির জানান, দখলদার উচ্ছেদ এবং খাল পুনঃখনন সমাপ্ত হয়েছে কি না বা চলমান রয়েছে কি না তা বুঝা যাচ্ছে না। বর্তমানে খালে আবর্জনা ও ময়লায় পরিপূর্ণ।
এ ব্যাপারে চৌমুহনী পৌর ভূমি অফিসের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খালের দখলকৃত অংশ চিহ্নিত করা আমাদের কাজ। আমরা তা করেছি। খাল পুনঃখনন ও দখলদারদেরকে উচ্ছেদ করা পানি উন্নয়ন বের্ডের কাজ।
চৌমুহনী পৌর সভার সচিব জাকির হোসেন জানান, আমরা চাই চৌমুহনীর এবং বেগমগঞ্জের পানি নিষ্কাশনের জন্য উপযুক্তভাবে খাল পুনঃখনন করা হউক। যেহেতু সাবেক প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছিল সেহেতু উদ্যেগটা ভালো ছিল।
পনি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, খাল পুনঃখননের ও দখলদার উচ্ছেদ এর ব্যাপার অসমাপ্ত রয়েছে তা আমার জানা ছিল না। আমার দপ্তরে সমাপ্ত রির্পোট জমা রয়েছে। এর পরও যদি খাল পুনঃখননের ব্যাপারে অসম্পূর্ণ থেকে থাকে তাহলে খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করি।
বেগমগঞ্জ নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান জানান, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েকটি শাখা খালে বেকু দিয়ে পরিস্কার করা হয়। চৌমুহনীর বড়পোল থেকে দক্ষিন দিকে আটিয়া বাড়ী পর্যন্ত পরিস্কার করা দরকার। এই জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবগত করানো হবে।
মৎস্য অফিসার আলমগীর হোসেন জেহাদী বলেন, ২০২০-২০২১ সনের প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিশেষ বরাদ্ধের মাধ্যমে নোয়াখালী খাল ও শাখা খাল গুলি পুনঃখনন করা হয়। নানাবিধ কারনে খাল আবর্জনায় ভরাট ও দখলদাররা দখল করায় এ অবস্থা হয়েছে। পুনঃরায় কোন প্রকল্প হাতে নিতে হলে বরাদ্ধসহ অনেক কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। তবেই চৌমুহনী শহর এবং আশপাশ এলাকায় মানুষের কিছুটা হলে ও দুভোর্গ কমবে।
চৌমুহনীর ভুক্তভোগী জনগন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।





























